প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে শিশু ও তার শেখাকে রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শুধু বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, প্রতিটি শিশুর কার্যকর শেখা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব জীবনের উপযোগী সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। শিশুরা কী শিখছে, কতটা শিখছে এবং সেই শেখা বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন করা হবে।
আজ যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বই পড়ানো নয়, প্রতিটি শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করা। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের নিজের কথা স্পষ্টভাবে বলা ও যোগাযোগের সক্ষমতা যাচাইয়ে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে। আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু শিখবে, নিজের কথা বলতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।
শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজারের অধিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট নিরসন, শ্রেণি কার্যক্রম আরো কার্যকর করা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভাবনা ও নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে একটি কার্যকর, মানসম্মত ও শিশুকেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে স্বপ্ন জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু শুধু বিদ্যালয়ে যাবে না, কার্যকরভাবে শিখবে। শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠাই হবে আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় অর্জন।
জেলা প্রশাসক, যশোর মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন এবং খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগের সব জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর