পর্তুগাল জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে মুখ খুলে ক্যাম্প ছাড়ার জন্য সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। একই সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের মূল্যায়ন ও শাস্তি চান তিনি।
পর্তুগাল জাতীয় দলের সর্বশেষ ক্যাম্প ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ, প্রধান কোচের সঙ্গে তাঁর আলোচনা এবং নরওয়ে ম্যাচে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
রোনালদো জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এমনকি পর্তুগালের জনগণের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখে রেখেছিলেন। তবে বিশ্বকাপ শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পথে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। নতুন প্রধান কোচের নাম নিয়েও তাঁর মতামত নেওয়া হয়েছিল।
রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কোচের সঙ্গে সাক্ষাতে জাতীয় দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে একটি পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ও শেষ ম্যাচে খেলার কথা ছিল তাঁর। শারীরিক সক্ষমতা ঠিক রাখতে মাঝের ম্যাচগুলোতে খেলোয়াড় পরিবর্তনের পরিকল্পনাও ছিল।
এরপর তাঁকে নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে দলের সঙ্গে না গিয়ে পর্তুগালে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। রোনালদো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি তখনও জাতীয় দলের অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে নিজের জন্য আলাদা সুবিধা নেওয়া দলের জন্য ভালো উদাহরণ হতো না।
নরওয়ে ম্যাচের দিন দলের খাবারের সময় কোচের এক সহকারী এসে জানান, কোচ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে কোচ তাঁকে ৩০ মিনিট খেলার প্রস্তুতি নিতে বলেন। রোনালদো জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সেদিন তাঁর খেলার কথা না থাকলেও তিনি প্রস্তাবে রাজি হন।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের বিরতিতে রোনালদো ওয়ার্ম-আপ করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। রোনালদোর অভিযোগ, প্রধান কোচ তাঁর দেওয়া কথা রাখেননি।
ম্যাচ শেষে দর্শকদের অভিবাদন জানাতে না যাওয়ার বিষয়েও নিজের ভুল স্বীকার করেন রোনালদো। পর্তুগালের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনাতেও তাঁর দায় রয়েছে।
ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর রোনালদো, প্রধান কোচ ও সিমাও কুতিনিওর মধ্যে একটি আলোচনা হয়। রোনালদোর দাবি, সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সংবাদ সম্মেলনে কোচ তাঁদের ব্যক্তিগত আলোচনায় যে বিষয়গুলো নিয়ে একমত হয়েছিলেন, সেটিই প্রকাশ্যে বলবেন।
রোনালদোর অনুমোদিত নথিতে উল্লেখ ছিল, জাতীয় দলের জন্য তাঁর সঙ্গে একটি পরিকল্পনা কোচ নিজেই করেছিলেন এবং রোনালদো সেই পরিকল্পনা মেনে নিয়েছিলেন। নরওয়ের ম্যাচটি মূল পরিকল্পনার অংশ না হলেও শারীরিকভাবে সুস্থ মনে হওয়ায় তাঁকে প্রয়োজন হলে খেলানোর কথা বলা হয়েছিল। তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানোকে কোচ নিজের ভুল হিসেবেও স্বীকার করার কথা ছিল।
তবে সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য আগের আলোচনার সঙ্গে মেলেনি বলে দাবি করেন রোনালদো। তাঁর ভাষ্য, এরপরই কোচের ওপর তাঁর আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
রোনালদো বলেন, মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্য তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সঙ্গে দেওয়া কথা ভঙ্গ করা হলে সেখানে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাই আর কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার অপেক্ষা না করে তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়াকে নিজের ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন রোনালদো। জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পর্তুগালের জনগণের কাছে আবারও ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, তাঁর মনে হয়েছিল ক্যাম্পে থেকে গেলে পুরো দলেরই ক্ষতি হতে পারে।
নিজের সিদ্ধান্তের জন্য শাস্তি পাওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছেন রোনালদো। তিনি বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের মূল্যায়ন ও শাস্তির আওতায় আসা উচিত। দলের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ক্ষেত্রে বরং বিষয়টি অতিরিক্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
রোনালদো আরও জানান, তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও জাতীয় দলের ক্ষেত্রে তাঁর মূল লক্ষ্য প্রতিযোগিতা করা। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে, ক্লাবের হয়ে খেলে গোল করার পর যে নিষেধাজ্ঞাই দেওয়া হোক, তা শেষ করে আবারও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত তিনি।
দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং জয়ের জন্য লড়াই করার মানসিকতা আগের মতোই আছে বলে নিজের বক্তব্যে জানিয়েছেন রোনালদো।
সূত্র: রোনালদোর ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর