বরিশালের আগৈলঝাড়ায এক ভূমি দস্যু জাল দলিলের মাধ্যমে জমি নাম জারি করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূমি অফিস বলেছে আমাদের ভূলবুঝিয়ে এক প্রতারক ওই কাজ করিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ভূয়া দলিলের নাম জারি বাতিলের দাবি করে আজগোর আলী মৃধা বরিশাল আদালতে একটি জালিয়াতি মামলা দায়ের করেছে। সিআর মামলা নং ৭১/২০২৬।
স্থানীয় ও ভূমি অফিস সূত্রে জানাগেছে , বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভাল্লুকসী গ্রামের মৃত: আ: ছবেদ হাওলাদারের ছেলে লিয়াকত আলী হাওলাদার একটি জাল দলিল তৈরিকরে। জানাগেছে উপজেলার উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার এসএ ৫৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৭৪ নম্বর দাগ। বিএস ২৪৮ নং খতিয়ানের ৫৪৯ নংদগের ২৭ শতাংশ জমির রেকডিয় মালিক বিনোদ বিহারির স্ত্রী উপসনা।
ওই জমি আত্মসাত করার জন্য লিয়াকত আলী হাওলাদার গ্রহীতা হয়ে উপসনাকে দাতা বানিয়ে আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্টার অফিসের রেজিস্ট্রার দেখানোহয়। যার দলিল নাম্বার ১৭১৯, তারিখ ১০-০৮-১০১০ ইং। ওই নামে কোন দাতার দলিল পাওয়া যায়না। ওই ভূয়া দলিলের মাধ্যমে মিউটেশন করে নেয় লিয়াকত আলী হাওলাদার। বরিশাল নকল খানা থেকে ওই একই নাম্বারে দলিল পাওয়া গেলেও দাতা ও গ্রহীতার নামের কোন মিল পাওয়া যায়নাই। ১৭১৯ নাম্বার দলিল (তারিখ ১০-০৮-১০১০ ইং)। ওই দলিলে দাতার নাম পাওয়া যায় উপজেলার ভাল্লুকসী গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র তপাদারের ছেলে তপন তপাদার। ওই দলিলে তপশিল সম্পত্তি পরিচয়: জেএল ১৫, হাল ৬ নাম্বার উত্তর ভাল্লুকসী মৌজার খতিয়ান নং এসএ ১১৩ নতুন ২৩৪, ডিপি ১৭৪ নং খতিয়ানের দাগ নাম্বার এসএ ৩৮৭, বিএস ৫৫২ দাগে নাল ৪৫ শতাংশ হইতে ২২ শতাংশ। এসএ ৩৯০,বিএস ৫৫৪ নং দাগের নাল ৪৯ শতাংশ জমির ৮ শতাংশ। মোট ৩০ শতাংশ জমি।
সূত্রে আরো জানাগেছে, লিয়াকত আলী হাওলাদারের জালিয়াতি প্রকাশ পাইলে তিনি তরিগড়ি করে ওই উপসনার নামে জমি রেকড নেয়া সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে লিকতের বিরুদ্ধে।
ওই জালজালিয়াতির বিরুদ্ধে একই এলাকার আজগোর আলী মৃধা বাদী হয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে লিয়াকত আলী হাওলাদারকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত ভারদেন সিআইডিকে।
আজগোর আলী মৃধা জানায়, ওই সম্পত্তি আমি চল্লিশ বছর ভোগদখলে আছি। লিয়াকত এখন জোরপূর্বক দখল নিতে চায়।
এবিষয়ে স্থানীয় ফয়জর আলী মৃধা, লুতফর রহমান ও মজিবর হাওলাদারসহ অনেকে বলেন, আমাদের জানামতে প্রায় চল্লিশ বছর ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে ফরমান আলীরল মৃধার ছেলে আজগোর আলী মৃধা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত লিয়াকত আলী হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আগৈলঝাড়া সাবরেজিস্টার অফিসে আমার নামে ১০ আগস্ট ২০১০ইং সালে ১৭১৯ নাম্বার দলিল মূলে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং তারিখে ৩৭৩৭৭০৭ নম্বর আবেদন করি। মিউটেশন মামলা নং ১২০৩। আগৈলঝাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.বায়েজীদ সরদারের ১৫ অক্টোবর ২০২৫ইং তারিখে আদেশ দেয়ন। ওই আদেশ বলে আমার নামে ২৭ শতাংশ জমি নামজারী রেকড হয়। যার খতিয়ান নং ২৫-৮১২, আমি মিউটেশন মালিক হয়ে একই এলাকার মতলেফ মৃধার ছেলে জুলহাশ মৃধা ও রমজান মৃধার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।
বর্তমান আগৈলঝাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.পলাশ আহমেদ বলেন, মিউটেশন রেকর্ড পাওয়া জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলো লিয়কত আলী হাওলাদার। তার আবেদনের কাগজ অনলাইনে রয়েছ। তদকালিন অফিসার তার কাগজপত্র দেখে রেকর্ড দিয়েছেন। আনেদনকারি জালজালিত করে আদালতকে ভুলবোঝালে তার দায়ভার আবেদনকরিকেই নিতে হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর