• ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার বর্ণমালা নিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিককর্মী সংঘ। সংগঠনটি টানা ২২ বছর ধরে এ আয়োজন করে আসছে বলে জানিয়েছেন এর নেতারা। ভাষা আন্দোলনের চেতনা, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

শুক্রবার বিকেলে শোভাযাত্রাটি শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে। পরে তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে হাইকোর্ট সড়ক ধরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী, তরুণ কর্মী, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।

আয়োজকরা জানান, শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি অন্তত ৩০টিরও বেশি ভাষার বর্ণমালা বহন করা হয়। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে পৃথিবীর সব দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও সমাদৃত। বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত ভাষার অধিকার আজ বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষের অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, “আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে গর্বিত। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তাই ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনা একসূত্রে গাঁথা।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের সাংস্কৃতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সংগঠনের প্রত্যাশা। দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, “আমার সংস্কৃতি, আমার ভাষা, আমার স্বাধীনতা—সবই একই ইতিহাসের অংশ।”

শোভাযাত্রা শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শিল্পীদের ইফতার অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফোরামের নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠুক জাতীয়তাবাদের প্রত্যয়ে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই প্রেরণা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ভাষা আন্দোলনের চেতনা জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ন ম হাসানুজ্জামান বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ধারণ করেই জাতিকে এগিয়ে যেতে হবে। ১৯৪৭ সালের বিভাজন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—এই ঘটনাগুলো জাতির পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় গৌরবের মুকুট। এ চেতনা ধারণ করেই নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।

সংগঠনের সদস্য এম এ হামিদ বলেন, পৃথিবীতে একটি ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার ইতিহাস বিরল। বাংলা ভাষা সেই গৌরবের অধিকারী। ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। তাই তরুণ সমাজকে ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস জানতে হবে এবং তা লালন করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিককর্মী সংঘের সদস্য- নৃত্যগুরু নীলুফার ওয়াহিদ পাপড়ি, অভিনেতা আব্দুল আজিজ, মতিউর রহমান রানা,তপন হাফিজ, অভিনেতা -নাজমুল খান, এটিএন এমসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক -সাজেদুর রহমান মুনিম বলেন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সংস্কৃতির বিকাশ অপরিহার্য। শিল্পী-সাহিত্যিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে নবগঠিত সরকারের প্রতি প্রত্যাশা জানানো হয়—সংস্কৃতিবান, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার। তারা মনে করেন, সাংস্কৃতিক চর্চা শক্তিশালী হলে সমাজে সহনশীলতা ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে।

বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি জাতীয় চেতনার পুনরুজ্জীবনের বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে তারা বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। সেই চেতনা ধারণ করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ—এমন প্রত্যাশাই উচ্চারিত হয়েছে আয়োজনে। উক্ত আয়োজনে যাত্রা শিল্পী ও যাত্রা মালিক সমিতির নেতা জনাব দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে যাত্রা দলের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।