
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে দেশটির ওপর নতুন করে আরও তীব্র বোমা হামলা চালানো হবে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারির মাধ্যমে তিনি সমঝোতার চাপ আরও বাড়িয়েছেন।
কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর আলোচনায় ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে, যখন ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান-ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ইরান চুক্তিতে সম্মত হলে ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শেষ হবে এবং কার্যকর অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ‘আগের চেয়ে আরও বড় মাত্রায়’ পুনরায় শুরু হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা পাকিস্তানকে জানানো হবে।
এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি’র দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যদিও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি। তিনি আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা যাচাই করতেই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় থাকা শাহবাজ শরিফ বলেন, ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্ব’ একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ সুগম করতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলমান আলোচনা একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাবে, যা অঞ্চল ও বিশ্বের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, উভয় পক্ষ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ‘এক পাতার সমঝোতা স্মারক’-এ একমত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে এবং শেয়ারবাজারেও উত্থান দেখা গেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি চীনে সফর করে ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে যুদ্ধ পরিস্থিতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। চীন দ্রুত শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চীনকে আহ্বান জানান, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে প্রণালী অবরোধ তুলে নিতে।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার ঘোষণা সত্ত্বেও পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ইরানি নৌযানে হামলার দাবি করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চায় না, তবে নতুন কোনো হামলা হলে ‘ধ্বংসাত্মক জবাব’ দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের অন্তত দুটি গ্রামে হামলা চালিয়েছে। দেশটির সেনাপ্রধান এয়াল জামির জানিয়েছেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী ও ব্যাপক অভিযান’ চালাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অগ্রগতি ও সামরিক উত্তেজনা—দুইয়ের মধ্যেই দোলাচলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর