• ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে প্রধান সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদ

তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ পথচারীরা

মনির হোসেন জীবন,বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৫, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে প্রধান সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

চতুর্মুখী সড়কে পরিবহন যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে রাস্তার নানাবিধ বিভিন্ন সমস্যা ; দেখার কেউ নেই রাস্তা সংস্কারের দাবিতে উত্তরাবাসির মানববন্ধন।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার আটাশ রোড থেকে রাজধানীতে প্রবেশের মূল পথ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আব্দুল্লাহপুর অংশ বর্তমানে ভয়াবহ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো দূরপাল্লার বাস ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে যেন “মৃত্যুফাঁদ” হয়ে উঠেছে এ সড়ক।

টঙ্গী ও আশুলিয়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশের অন্যতম ব্যস্ত সংযোগস্থল হওয়ায় এ অঞ্চলে প্রতিনিয়ত সৃষ্ট হচ্ছে যানজট। চালকদের যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অবৈধ পার্কিং, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পথচারীরা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কার হয়নি, অথচ প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি এ রুট ব্যবহার করছে।

আজ সোমবার (২৫ আগস্ট ২০২৫) সকাল ৯টায় আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী ব্রিজ ও বেড়িবাঁধ পর্যন্ত পদযাত্রা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে “উদ্যম ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ” এবং বৃহত্তর উত্তরাবাসী। মানববন্ধন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রিন্স জানান—সড়ক ও টঙ্গী বেইলি ব্রিজ সংস্কার, জননিরাপত্তায় সিসিটিভি, পুলিশ টহল বৃদ্ধি, পাবলিক টয়লেট এবং লাইব্রেরি স্থাপনসহ নানা দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকলেও মূল সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ না করায় যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পথচারীরা বলেন, খানাখন্দে ভরা সড়ক বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়, আবার রোদ হলে ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এতে পরিবেশ দূষণও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।

অন্যদিকে, মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার, তিন চাকার যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে যানজট। ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রাস্তার এই করুণ অবস্থা যাত্রী ও পথচারী উভয়কে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (BRT) পিএলসিয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরফান মাহমুদ অর্পন সাংবাদিকদের বলেন—প্রকল্পের কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে, ডিপিপির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। সড়ক সংস্কারের বিষয়টি মূলত সড়ক বিভাগের অধীনে।

সম্প্রতি উত্তরা-তুরাগ অঞ্চলের রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে।