স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভোলা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামানের মধ্যে কাজের গুণগতমান নিশ্চিত এবং সার্বিক কর্মকাণ্ডের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে অনিয়ম বন্ধ নিয়ে মতবিরোধ চলছে।
অভিযোগ মতে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময়ে বিগত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে ম্যানেজ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে একই পন্থায় স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ে তদবিরের মাধ্যমে ভোলা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পান। অন্যদিকে সিনিয়র সরকারি প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয় সহ কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার দায়িত্ব পালন শেষে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ভোলা জেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এলজিইডি ভোলা জেলা সূত্রে জানা যায়,
মোঃ নুরুজ্জামান যোগদানের পর থেকে ভোলা জেলার এলজিইডি অফিসে বিভিন্ন কার্যক্রমের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্যমান অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দেখতে পান।
সে আলোকে তিনি বাস্তবায়ওধীন স্কিমের বিপরীতে প্রদেয় বিল নিরীক্ষা পূর্বক স্কিম গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে পর্যাপ্ত অনিয়ম ও ত্রুটি পান।
পরবর্তীতে বিল কর্তন সহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটি ও অনিয়ম সংশোধনের পরামর্শ দেন।
অনেকটা সফল হলেও এক পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হকের বিরাগ ভাজন হলেন।
তবে বিষয়গুলো নিয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভাগীয় কার্যালয়ে অনেকের মতে বৃহত্তর বরিশালের ৬ জেলার মধ্যে ভোলা জেলার কাজের গুণগতমান সর্বোচ্চ নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল হক এবং চলমান কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের মধ্যে অদৃশ্যমান গোপন আর্থিক লেনদেনের সমঝোতা।
এদিকে চূড়ান্ত বিল প্রদানের পূর্বে নির্বাহী প্রকৌশলীর সরেজমিনে স্কিম পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও মাঠ পর্যায়ে স্কিম পরিদর্শনে যথেষ্ট লুকোচুরি,অনিহা অনুপস্থিতিতে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গভীর রাতে
নির্বাহী প্রকৌশলীর দাপ্তরিক অফিসে বসে সমস্ত নিয়ম ভঙ্গ করে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে বিব্রত করে নিজেই ফাইল সই করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে টাকা প্রদানের ব্যবস্থা করছেন।
এভাবে ঠিকাদারদের সাথে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধে গভীর সখ্যতা তৈরি করেন।
অভিযোগে আরো জানা যায়,
সরকারি নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে সপ্তাহে মাত্র ২-৩ দিন অফিস করেন এবং এলজিইডির রেস্ট হাউসটিও নিজের দখলে রেখেছেন।
এলজিইডি পদস্থ কর্মকর্তারা ভোলা জেলায় দাপ্তরিক কাজে এসে রেস্ট হাউস ব্যবহার করার অনুমতি পাচ্ছেন না।
যাহা নীতি নৈতিকতার লঙ্ঘন বলে অনেকে দাবি করেন।
এলজিইডি ভোলা জেলায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার মানসিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় ঠিকাদারগণ তার ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দাবি পূরণে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা থাকলেও নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ জেলার সার্বিক কর্মকাণ্ড ঠিক আছে কোন অনিয়ম নেই।
এলজিইডি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা বিভাগীয় পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের গেস্ট হাউস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিধি নিষেধ আছে।
সে আলোকে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজের জেলা সফরে গেলে তা ব্যবহারের বিধান রয়েছে।
অথচ ভোলা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক উল্লেখিত জেলার গেস্ট হাউস টি তার আবাসস্থলে পরিণত করেছেন।
যে কারণে রাষ্ট্রীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা গেস্ট হাউসটি ব্যবহার করতে পারছে না।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে, মৌখিকভাবে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে ।
অন্যথায় অফিসিয়াল চিঠি দিয়ে তাকে গেস্ট হাউজ ছাড়া আর নির্দেশ প্রদান করা হবে। অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর