গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাবান, পোশাক, ফার্নিচার ও বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বন্দিরা। উৎপাদিত পণ্য বিক্রির লাভের অর্ধেক পাচ্ছেন তাঁরা। বর্তমানে কারাগারের উৎপাদন শাখায় কাজ করছেন ১৪৯ জন বন্দি। তাঁদের প্রত্যেকে মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
কারাগারে বন্দিদের অবসর সময়কে উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ প্রিজন ফ্রেশ সাবান উৎপাদনের পাশাপাশি পোশাক, ফার্নিচার ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করছেন বন্দিরা। এ ছাড়া বেকারিতে কাজ এবং কারাগারে ব্যবহারের জন্য রেজিস্টার ও খাতা তৈরির মাধ্যমেও তাঁরা অর্থ উপার্জন করছেন।
এসব পণ্য বিক্রি করে অর্জিত লাভের অর্ধেক বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে। উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তাঁরা নিজেদের প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারছেন। পাশাপাশি পরিবারের কাছেও অর্থ পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ বন্দিরা প্রিজন ফ্রেশ সাবান, পোশাক ও ফার্নিচার সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
তিনি বলেন, এসব কাজে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বন্দিরা বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কারাগারে এ ধরনের উদ্যোগ চালু করা হবে।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে উৎপাদিত সাবান বিভিন্ন কারাগারের বন্দি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এসব সাবান বাজারজাত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় সাবান উৎপাদন কারখানা। সেখানে কাজের মাধ্যমে বন্দিরা আধুনিক শিল্পকারখানার পরিবেশে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিয়মিত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। কারামুক্তির পর তাঁদের কর্মসংস্থান কিংবা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা সহায়ক হবে বলে মনে করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মো. মাসুদ হাসান জুয়েল বাসসকে বলেন, কারাগারকে শুধু বন্দি রাখার স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৬ জুলাই কারাগারে সাবান উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে সেখানে তিন ধরনের সাবান তৈরি হচ্ছে। কারখানাটিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় দেড় হাজার সাবান উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। প্রতিটি সাবানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।
সাবান তৈরির কারখানায় বন্দিরা কয়েকটি ধাপে কাজ করেন। প্রথমে কাঁচামাল ও রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয়। এরপর থ্রি-রোলার মেশিনে মিশ্রণ প্রক্রিয়াজাত করা হয়। প্লোডার মেশিনের মাধ্যমে সাবানের নির্দিষ্ট আকৃতি তৈরি করা হয়। পরে সাবানে লোগো ও ছাপ দিয়ে মোড়কজাত এবং প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেলার মো. আরিফুর রহমান বাসসকে বলেন, বর্তমানে এ কারাগারে বন্দির সংখ্যা ৫ হাজার ৫৬৯ জন। তাঁদের মধ্যে ১৪৯ জন উৎপাদন শাখায় কাজ করছেন। কারাজীবনের অবসর সময়কে কাজে লাগাতে তাঁদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে একজন বন্দি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। উপার্জিত অর্থের একাংশ তাঁরা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারছেন। অন্য অংশ পরিবারের কাছে পাঠানোর সুযোগও রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের ৭৫টি কারাগারে বন্দিদের জন্য প্রায় ৯০ হাজার পিস এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১০ হাজার পিস সাবানের চাহিদা রয়েছে। সব মিলিয়ে সাবানের মোট চাহিদা প্রায় এক লাখ পিস।
কারা অধিদপ্তর জানায়, নিজস্ব কারখানায় সাবান উৎপাদনের ফলে বাইরে থেকে এসব পণ্য কেনার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে। বন্দি ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাহিদা পূরণের পর উৎপাদিত সাবান বাণিজ্যিকভাবে বাজারে বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে কারাগারের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও কারাগারভিত্তিক শিল্পায়ন বন্দিদের পুনর্বাসন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারামুক্তির পর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর