কৃষি নির্ভর উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
এ লক্ষ্যে বরিশাল সদর উপজেলার ১০ নম্বর চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কৃষককে বাদ দিয়ে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সুযোগ সৃষ্টি, সেচ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। কৃষকের জীবনমান উন্নত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে, কৃষক ভালো থাকলে দেশও এগিয়ে যাবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে জলবায়ু ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোঃ এনামুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় ও নদীবেষ্টিত এলাকায় কৃষি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পান না। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনের জন্য খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনীয় খাল পুনঃখনন করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানোর পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা বাড়ানো সম্ভব হবে। এর ফলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষকের আয় বাড়তে পারে। কৃষির উন্নয়নের সঙ্গে গ্রামীণ যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সমন্বয় করেই প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আল ইমরান বলেন, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে স্থানীয় চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর রাখা জরুরি।
বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সাদিকুর রহমান বলেন, চন্দ্রমোহন ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দিক থেকে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, পানি নিষ্কাশন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা দরকার।
দৈনিক ভোরের সম্পাদক এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকার কৃষকদের সুবিধার্থে এমন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সারা বছর সহজে কৃষিকাজ করতে পারেন এবং উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করতে পারেন। স্থানীয় জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হলে এর সুফল সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
সভাপতির বক্তব্যে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক হাওলাদার বলেন, এই ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষির উন্নয়ন ছাড়া এ এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
সভায় উপস্থিত কৃষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তারা খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ, কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানান।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর