সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যান্য অন্যায় দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। একই সঙ্গে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সরকারি সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্মমন্ত্রী। আজ সকালে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, সমাজের অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা গভীর আস্থা নিয়ে শোনেন এবং বিশ্বাস করেন। এ কারণে জুমার খুতবার মাধ্যমে নৈতিকতা ও সামাজিক অপরাধবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে তিনি ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান।
সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের প্রসঙ্গ তুলে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও দেশের ইমাম, ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘আস্থা গণভোট’ বা হ্যাঁ-না ভোটেও আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি আরও জানান, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমানে ওই তহবিলের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বিএনপি চেয়ারম্যানের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর