গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সুদৃঢ় সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপি'র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী আজ বিকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এড. এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি-র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।
সংগ্রাম ও উন্নয়নের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি'র গৃহীত ১৯ দফা কর্মসূচির মূল ভিত্তিই ছিল এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন। ৯০-এর দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত সূচিত হয়। বিশেষ করে নারী শিক্ষার প্রসার, যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপে বিএনপির অবদানের কথা তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, ১/১১ পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র যে চরম সংকটে পড়েছিল, তা পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদের রূপ নেয়। কিন্তু দেশের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা শত শত ও সহস্র প্রাণের বিনিময়ে দেশকে পুনরায় স্বৈরাচারমুক্ত করেছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক তারেক রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম সূচিত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো সামরিক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা অপশক্তির উত্থান না হতে পারে, সেজন্য সাংবিধানিক ধারা ও পদ্ধতি সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত "আই হ্যাভ এ প্ল্যান" (I have a plan)-এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদানসহ সকল নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিত এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক এবং মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিএনপি'র দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতকের ইতিহাসকে আন্দোলন, গৌরব, অর্জন, সংগ্রাম, উন্নয়ন এবং ধারাবাহিক পরিবর্তনের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজের রাজনৈতিক সূচনার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমগ্র দেশবাসীসহ সিলেট জেলা ও মহানগরের সকল দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের চর্চা করা, সামাজিক বৈষম্য দূর করা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতি অনুসরণে দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে এক সংকটময় মুহূর্তে দেশপ্রেমিক স্বপ্নদ্রষ্টা শহীদ জিয়া এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাধীনতার পর যখন দেশের সার্বিক অস্তিত্ব ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিয়ে বিশ্ব দরবারে প্রশ্ন ছিল, তখন অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলেন এবং চাল রপ্তানির ব্যবস্থা করেন। কৃষি, শিল্প ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে তাঁর যে ইতিবাচক প্রভাব ছিল, তা আজও দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও দেশের সার্বিক চ্যালেঞ্জগুলো দক্ষতার সঙ্গে সমাধান করবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এমপি ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ও সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরী প্রমুখ।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর