প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৬, ৩:২০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৭, ২০২৬, ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব: এলজিআরডি মন্ত্রী

জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে ‘জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা তাদের দায়িত্ব। স্থানীয় সরকারের কোনো প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা কর্মজীবনে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর চাকরি করার সুযোগ পান। বিপরীতে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই সময় শেষে তাদের আবার জনগণের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের কাজের প্রমাণ দিতে হয় এবং পুনরায় নির্বাচিত হতে হয়। ফলে জনপ্রতিনিধিদের কাজের গুরুত্ব ও জবাবদিহিতা অনেক বেশি।
গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, অনেক সময় সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ একটি জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে দিনের পর দিন ঘুরেও সেবা পান না। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা দেখাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের নিয়ে আলোচনা করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল উদ্দেশ্য একই—জনগণের সেবা করা। পদ্ধতি ভিন্ন হলেও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উভয়ের লক্ষ্য এক হওয়া উচিত। জনগণ নির্বাচিত সরকারের কাছে অনেক প্রত্যাশা রাখে। তাই সেই প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
সরকারের হাতে থাকা ক্ষমতা জনগণের সেবায় ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মানুষের সেবা বাধাগ্রস্ত করার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে না। মানুষের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই ক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় প্রশাসনের জন্য এ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার সঙ্গে নিবন্ধন তথ্যভান্ডারের তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। প্রায় ১৯ কোটি মানুষের দেশে নিবন্ধন ডাটাবেজে এর চেয়ে বেশি মানুষের তথ্য থাকা উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু কম্পিউটার বা প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পেছনে থাকা ব্যক্তিদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি সাধারণ জন্মসনদ নিতে কোনো নাগরিককে যাতে ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশে যেসব গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ডেলিগেশন, ঢাকার হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ড. মিখাল ক্রেজা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর