দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের তুলনায় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার কম। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সরকারি ঋণ জিডিপির ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। একই সময়ে ভারতের এ হার ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের হার ভারতের প্রায় অর্ধেক। তবে ঋণের অনুপাত কম হলেই সামগ্রিক ঋণ পরিস্থিতি ঝুঁকিমুক্ত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকারি ঋণের অনুপাতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মালদ্বীপ ও ভুটানের মতো কয়েকটি দেশে ঋণের পরিমাণ জিডিপির চেয়েও বেশি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে এ অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। তবে বিভিন্ন দেশের ঋণের হিসাবের সংজ্ঞা, তথ্য প্রকাশের সময় এবং প্রাক্কলনের ভিত্তি এক কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
অর্থনীতির আকারের তুলনায় সরকারি ঋণের অনুপাত একটি দেশের আর্থিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ অনুপাত তুলনামূলক কম হলে সরকারের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নীতিগত সুযোগ থাকতে পারে। তবে বাস্তবে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ, সরকারের রাজস্ব আয়, বৈদেশিক মুদ্রার প্রাপ্যতা এবং ঋণের অর্থ কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে সরকারি ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ঋণের অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও তুলনামূলক কম ঋণ-জিডিপি অনুপাত ধরে রাখার পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানো, উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও সুফল মূল্যায়ন এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঋণের অর্থ থেকে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল নিশ্চিত করা না গেলে ঋণের বোঝা ভবিষ্যতে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও উন্নয়ন চাহিদার মধ্যে বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ শুধু ঋণের অনুপাত কম রাখা নয়; বরং ঋণকে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর