জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদের পক্ষসমূহের সপ্তদশ সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান ড. ফাহমিদা খানম এ আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ইয়েরেভানের আরাগাৎস প্লেনারি হলে বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগ, অভ্যন্তরীণ জলাশয় এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতির জীববৈচিত্র্য রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ এসব প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস, ম্যানগ্রোভ বন ও জলাভূমির অবক্ষয়ের ফলে সামাজিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। এসব সংকটের মুখে পড়ছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীও।
ড. ফাহমিদা খানম জানান, কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার ও সমাজের সব স্তরের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ। এ কাঠামোর আলোকে ২৩টি জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা জমা দেওয়া হয়েছে, যার আওতায় রয়েছে ১০৭টি কার্যক্রম।
এসব কার্যক্রমের মধ্যে জীববৈচিত্র্য বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংরক্ষিত এলাকা ও অন্যান্য কার্যকর এলাকাভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আগ্রাসী বিদেশি প্রজাতি শনাক্ত করার বিষয়গুলো রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক পদ্ধতিতে ২০৩১ সালের মধ্যে ২৫ কোটি নতুন গাছ লাগানো ও পরিচর্যার উদ্যোগ বর্তমান সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি। এ উদ্যোগ জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জলবায়ু এবং মানুষের কল্যাণেও ভূমিকা রাখবে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, ভূমির অবক্ষয় রোধ, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়নের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৩ সাল থেকে নাগোয়া প্রটোকল বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সরকারি সমন্বয়ব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং পুনর্বিন্যাস করছে। জিনগত সম্পদ-সম্পর্কিত ডিজিটাল সিকোয়েন্স তথ্য (ডিএসআই) ও সিনথেটিক বায়োলজিসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি।
এ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিপর্যায়ে দক্ষতার ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জীববৈচিত্র্য সনদের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদের আলোকে উন্নত দেশগুলোর প্রতি অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক তথ্য তৈরি, পরিবীক্ষণ কাঠামো বাস্তবায়ন, দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূলধারায় জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা চাওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের অর্থায়ন সহজ প্রক্রিয়ায় পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে এবং তা সংশ্লিষ্ট দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও মালিকানা নিশ্চিত করে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ আঞ্চলিক ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জোরদার এবং আঞ্চলিক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য অর্থায়নের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, ভূমির অবক্ষয় রোধ ও জলবায়ু কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপক্ষীয় পরিবেশ চুক্তিগুলোর পরিবীক্ষণ ও প্রতিবেদন ব্যবস্থায় সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ড. ফাহমিদা খানম বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবনযাপনের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ইয়েরেভান সম্মেলন প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি কার্যকর মাইলফলক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর