ধর্মীয় অধিকার ও সংবিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সংবিধান নাগরিকদের যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষা করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের এখানে একটা স্লোগান আছে যে, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরা সেই সঙ্গে যুক্ত করে বলতে চাই, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আপনাদের এই অধিকার রাষ্ট্র থেকে পাওয়া, সংবিধান থেকে পাওয়া।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে, তা রক্ষার বিষয়ে সবাইকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার মধ্যেও এই সম্মিলিত ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতিফলন রয়েছে।
এই সম্প্রীতির বন্ধন নষ্ট করে বিভাজন সৃষ্টির মাধ্যমে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই এ দেশের মানুষ একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করার পাশাপাশি একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় নেওয়া হয়েছিল, সেই অবস্থানেই তাঁরা রয়েছেন। সম্প্রীতির এই আদর্শ রক্ষায় যেকোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদী নয়। কোনো বিষয়েই চরমপন্থা অবলম্বন করার প্রবণতা এ দেশের মানুষের নেই। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার নানা চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে—এমন বক্তব্য দেশে-বিদেশে বিভিন্নভাবে বড় করে প্রচার করা হয়। তবে দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম যথাযথভাবে পালনের সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি পরিবর্তনকাল অতিক্রম করছে। ভয়াবহ অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ধৈর্য ধরে সবাইকে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
জাতীয় সমস্যাগুলো পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তা সবাই গ্রহণ করেছে। সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবি পূরণে যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
পূজা উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা।’
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ।
এর আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর