পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটি অংশ মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না।
পতিত স্বৈরাচার দেশের বাইরে থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে একটি পক্ষ অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এ স্লোগান ও নীতিতে যারা বিশ্বাস করে না, তারাই এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। দেশের কয়েকটি স্থানে কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টার ঘটনাও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশের বাইরে থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে অর্থ সরবরাহ করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এক পক্ষ জনগণকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র করছে, অন্য পক্ষ নির্বাচনের আগে জনগণকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছে। বর্তমানে এ দুই পক্ষ এক হয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কেউ যাতে আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা যেন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়েও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বেকারত্ব নিরসনে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজশাহী জেলার বন্ধ কারখানার মালিক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে তাঁদের উৎসাহিত করা হয়েছে। গত সাত মাসে ছয়টি কলকারখানা চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বন্ধ কলকারখানা চালুর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে সারা দেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে শিশু ও নারীদের জন্য পৃথক শয্যার পাশাপাশি কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিস সুবিধা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হবে। এর ফলে গ্রামের মানুষকে সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্যও শহরে যেতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারে বোতাম চেপে সংশ্লিষ্ট চাষিদের মুঠোফোনের হিসাবে এ অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং রাজশাহী জেলার সংসদ সদস্যরা।
সমাবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
এর আগে সামরিক বিমানে করে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তিনি রংপুরের ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর