পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান শিক্ষকের আচরণের প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরার চাইল্ড হ্যাভেন স্কুলের এক শিক্ষিকার পদত্যাগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়া পদত্যাগপত্রে ওই শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার বিষয়টি তাঁর নজরে আসে এবং এ নিয়ে আপত্তি জানালে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে তিনি অযৌক্তিক প্রশ্ন, ধমক ও অপমানজনক আচরণের শিকার হন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় ভুল উত্তর রাবার দিয়ে মুছে তা সংশোধন করে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘটনা তাঁর নজরে আসে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষিকা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে স্কুল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন বলেও অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। একপর্যায়ে পরিস্থিতির কারণে তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুরভী আক্তার এর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা যায় । ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক তাঁর সঙ্গে যে আচরণ করেছেন, ওই দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই তার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। তাঁর আরও দাবি, প্রধান শিক্ষক তাঁকে বলেছেন, “আপনার মতো একজন নীতিবান শিক্ষিকার জন্য আমি বাকি ১০ জনকে হারাতে পারব না।” এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অবিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা চলে যাবার সময় শিশু শিক্ষাথীদের মধ্যে একটি আবেগঘন মূহূর্তের সৃষ্টি হয় বলে জানা যায়।
শিক্ষিকার অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাঁর হাতে এখনো কোনো পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি এবং পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । অভিযোগের দায় তিনি পদত্যাগকারী শিক্ষিকার দিকেই ঠেলে দিয়েছেন। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাবি।
এখন মূল প্রশ্ন—৯ সেপ্টেম্বর চাইল্ড হ্যাভেন স্কুলে আসলে কী ঘটেছিল, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং শিক্ষিকার অভিযোগের সত্যতা কতটা? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দিনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, পরীক্ষার খাতা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য ও অভিভাবকদের উদ্বেগ—সব মিলিয়ে চাইল্ড হ্যাভেন স্কুলের এই ঘটনায় এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধান চলমান চোখ রাখুন দৈনিক ভোর এর পরবর্তী প্রতিবেদনে, নিয়ে আসাবো আপনার জানা অথবা অজানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর