দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব মাতাব্বর ফজলুল হক।
সম্প্রতি দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিজিএমইএর কয়েকজন কর্মকর্তা, কথিত শ্রমিক নেতা এবং কিছু অসাধু পোশাকশিল্প মালিকের পারস্পরিক যোগসাজশে বিভিন্ন সময় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করা হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ বন্ধের নামে সরকার ও বিজিএমইএ উভয় পক্ষ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
মাতাব্বর ফজলুল হক তাঁর বক্তব্যে বিজিএমইএর কয়েকজন কর্মকর্তা এবং শ্রমিক নেতা হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাঁদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন মুনসুর খালেদ, ফরহাদ হোসেন, আরেফিন, মিজান, কবির উদ্দিন রতন, ফারজানা শিরিন ও ফিরোজা বেগম। পাশাপাশি শ্রমিক নেতা হিসেবে সেলিম রেজা, রনি, দেলোয়ার, নাজমা আক্তার ও মোশরেফা মিশু মন্টু ঘোষ সহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া আহাদ আনসারি, আমজাদ হোসেন ও এ কে এম ফিরোজসহ কয়েকজন পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
বিজিএমইএকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি
সাবেক এই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, অতীতে বিজিএমইএর মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সংগঠনের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, সংগঠনটির কিছু কর্মকর্তা ও নেতার কর্মকাণ্ডে বিজিএমইএর স্বাভাবিক সাংগঠনিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক কর্মকর্তাকে হয়রানি ও চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে বিএনপিপন্থি হিসেবে পরিচিত বর্তমান বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুকে নিয়েও কিছু কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতা উপহাস ও বিদ্রূপ করতেন। এমনকি তাঁকে বিভিন্নভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
মাতাব্বর ফজলুল হক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ খাতে পরিকল্পিত শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হলে দেশের রপ্তানি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আরও তথ্য দেওয়ার আশ্বাস
মাতাব্বর ফজলুল হক দাবি করেন, বিজিএমইএর অতীত কর্মকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর কাছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থাকে সেসব তথ্য ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সরবরাহ করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পোশাকশিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষা, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য: এ প্রতিবেদনে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর