চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)। একই সময়ে বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি ও বর্তমান সরকারকে ঘিরে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বিপুলসংখ্যক অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ৪১০টি, বিএনপিকে নিয়ে ১১৮টি এবং সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী)।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনটির নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি এ পরিসংখ্যান জানান।
সালেহ শিবলী বলেন, অপতথ্য ও গুজব বর্তমানে সাংবাদিকতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খবরের সত্যতা যাচাই করতে মানুষ এখনো দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের পাশাপাশি সেখানে দায়িত্বহীন আচরণও বেড়েছে। তবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এখনো মানুষের আস্থা ধরে রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো খবর দেখার পর সেটির সত্যতা নিশ্চিত হতে অনেকে টেলিভিশন ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের খবরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন।
অপতথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাইবিষয়ক অনুষ্ঠান চালু করা প্রয়োজন। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এমন অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কখনো কখনো বড় সংবাদমাধ্যমও যাচাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রচারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন সালেহ শিবলী। তবে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তনের সুযোগ রাখার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অদক্ষ অনেক মানুষও অপতথ্যের শিকার হন। তাঁদের পক্ষে সব সময় প্রতিবাদ জানানো বা প্রতিকার চাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে সরকারকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ডিআরইউর নতুন সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, একটি সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মতভিন্নতা থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মাধ্যমে অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোই সংগঠনের সৌন্দর্য।
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শকে সমর্থন করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। তবে ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা দলীয় অবস্থান যেন সত্য প্রকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সাংবাদিকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সালেহ শিবলী বলেন, সত্য ঘটনা তুলে ধরাই সাংবাদিকতার মূল কাজ। সরকারের ভালো উদ্যোগের ইতিবাচক দিক যেমন প্রকাশ করতে হবে, তেমনি কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সেটিও তুলে ধরতে হবে। তবে কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়মের কারণে সামগ্রিক উদ্যোগের ইতিবাচক দিক আড়াল করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্ম, মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। সব নাগরিকের সমান অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সংগঠনটির ঐতিহ্য ও ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মাইনুল হাসান সোহেল। স্বাগত বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন ডিআরইউর সহসভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান এবং সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক মো. রাশিম (রাশিম মোল্লা), ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী ও মো. আব্দুল আলীম।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর