ভোটার তালিকা ব্যাপক সংশোধনের প্রতিবাদে ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে আটক করে পুলিশ; পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভে সাময়িকভাবে আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে বিরোধী দলের সদস্যরা মিছিল বের করলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাদের আটকে দেয়। এ সময় রাহুল গান্ধীকে পুলিশের ব্যারিকেডের ওপর দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা নাড়তে দেখা যায়। পরে তাকে কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে আটক করা হলেও কিছুক্ষণ পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধী ও তার আইনপ্রণেতা বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা পরে নির্বাচন কমিশনের পাশের সরকারি বেতারকেন্দ্রের কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। সেখান থেকে সাংবাদিকদের রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভোট চুরির মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি দেশকে ছিনতাই করেছেন। তিনি বলেন, দেশের সঙ্গে যা করা হয়েছে, তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলা হয় এবং এ ঘটনায় কেউ রেহাই পাবে না।
ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী রাজনীতিকরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন কাজ করছে।
সমালোচকদের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিমরা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করাই সংশোধন প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য।
মোদির দলও এই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কিছু বিরোধী দল, বিশেষ করে কংগ্রেস, সরকার পরিবর্তন করে রাহুল গান্ধীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য সমন্বিতভাবে চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আক্রমণ করছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পর এ প্রচারণা আরও জোরালো হয়।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যে দুজন ভোটার তালিকা সংশোধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। এতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে এই কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে এ নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। মঙ্গলবারের বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ডে ‘জ্ঞানেশ, হয়ে গেছে ভাই’সহ ভোটে কারসাজির অভিযোগসংবলিত বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
বিরোধী নেতারা ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব পরিবর্তনের কারণে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। জ্ঞানেশ কুমার এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, জালভাবে নিবন্ধিত ভোটার শনাক্ত করা এবং ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ ভোট দেওয়া ঠেকাতেই ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে অনলাইনে মে মাসে আত্মপ্রকাশ করা ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) শনিবার রাজধানীতে ‘গণসংহতি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি এর আগে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর প্রচারণায় সফল হয়েছিল।
বামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকটি বড় ছাত্র সংগঠনও শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে আরও একটি শুনানি হতে পারে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর