
ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দেশটিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কোনো নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। সোমবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগে ভেনেজুয়েলাকে ঠিক করতে হবে। মানুষের পক্ষে ভোট দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সেখানে এখন নেই। এতে কিছুটা সময় লাগবে এবং দেশটিকে আবার সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন সেনা মোতায়েন করে সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়। তার ভাষায়, “না, আমরা যুদ্ধে নেই। আমরা যুদ্ধ করছি মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে, যারা তাদের কারাগারের বন্দি, মাদকাসক্ত ও মানসিক রোগীদের আমাদের দেশে পাঠাচ্ছে।”
এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি অবকাঠামো পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র তেল কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিতে পারে। তার মতে, এই প্রকল্প ১৮ মাসের কম সময়েই শেষ করা সম্ভব। তিনি বলেন, এর জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। তেল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করবে এবং পরে রাজস্ব বা অন্যান্য মাধ্যমে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
সাক্ষাৎকারে আরও জানানো হয়, ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলারসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ভূমিকা রাখবেন। তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে দায়িত্ব থাকবে—এ প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এক শব্দে বলেন, “আমি।”
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটন আদালতে হাজির হয়ে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন। সোমবার আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, তিনি নির্দোষ এবং তাকে কারাকাসের বাড়ি থেকে অপহরণ করে আনা হয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো নিজেকে ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং আদালতে উত্থাপিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
মাদুরোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি কোকেন পাচার নেটওয়ার্ক তত্ত্বাবধান করেছেন, যার সঙ্গে মেক্সিকোর সিনালোয়া ও জেটাস কার্টেল, কলম্বিয়ার ফার্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়া গ্যাং যুক্ত ছিল। মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন এবং দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সোমবার ভেনেজুয়েলায় একটি জরুরি আদেশ জারি করা হয়, যাতে শনিবারের মার্কিন অভিযানের সমর্থক সন্দেহে যেকোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই দিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই অভিযানের বৈধতা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হয়। রাশিয়া, চীন এবং ভেনেজুয়েলার বামপন্থি মিত্ররা এ অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স, সিবিসি নিউজ, এনবিসি নিউজ
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর