যে কারণে খামেনিকে ধরতে গিয়ে নাস্তানাবুদ হতে পারে মার্কিন বাহিনী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১৯:২৫ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের উদ্দেশ্যে পরিচালিত মার্কিন অভিযানের প্রভাব কাটতে না কাটতেই এবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে তুলনামূলক সহজে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালাতে পেরেছিল, ইরানের ক্ষেত্রে সেই বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। কারণ ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী, সমন্বিত ও আধুনিক, যা মূলত চীন ও রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। তেহরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর ইরান তার আকাশসীমা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সামরিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা মূলত রুশ নির্মিত এস-৩০০ ও বুক-এমটু-টু সিস্টেমের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানে কার্যত অকার্যকর প্রমাণিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার রাডার ব্যবস্থাগুলো একে অপরের সঙ্গে নেটওয়ার্কযুক্ত না থাকা এবং দুর্নীতির কারণে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মার্কিন ইএ-১৮জি গ্রোলার বিমানের ইলেকট্রনিক আক্রমণে সহজেই ভেঙে পড়ে। বিপরীতে ইরান গত এক বছরে তার প্রতিরক্ষা কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে এবং বর্তমানে চীনের অত্যাধুনিক ‘এইচকিউ-৯বি’ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন করেছে, যা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম এবং শব্দের চেয়ে চার গুণ গতিতে চলতে পারে। চীনের সঙ্গে ‘তেল বিনিময়ে অস্ত্র’ চুক্তির আওতায় এই প্রযুক্তি ইরান অর্জন করেছে বলে ধারণা করা হয়। পাশাপাশি রাশিয়ার সর্বাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখন ইরানের হাতে রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার ব্যবহৃত এস-৩০০-এর তুলনায় বহুগুণ বেশি কার্যকর। ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তির আরেকটি বড় দিক হলো তাদের দেশীয় প্রযুক্তি, যেখানে রুশ এস-৩০০-এর আদলে তৈরি ‘বাভার-৩৭৩’ সিস্টেম ৩০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লায় কাজ করতে সক্ষম। রুশ, চীনা ও দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই নেটওয়ার্কভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। গত জুনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরান দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার প্রতিরক্ষা বলয় আরও শক্তিশালী করেছে, যার ফলে ভেনেজুয়েলার মতো একতরফা অভিযান ইরানের ক্ষেত্রে চালানো পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জটিল হবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট