রাজধানীর উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে রাজউকের অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদন অনুযায়ী ভবনটি দুই তলা নির্মাণের কথা থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর নতুন করে কলাম নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে ভবনটির তৃতীয় তলা নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত নকশার বাইরে দুটি দোকান নির্মাণের অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
জানা গেছে, উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৮৯ নম্বর প্লটে ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির মালিক সাঈদা শামসুন নাহার বেগম রীনা, ও এম ইসলাম নিউটন।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দ্বিতীয় তলার ছাদের ওপর কলাম নির্মাণের বিষয়টি দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদিত দুই তলার সীমা অতিক্রম করে ভবন সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দাবি, অনুমোদিত নকশার বাইরে দুটি দোকানও নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভবনটিতে রাজউকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মাণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত বোর্ডও দেখা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের বোর্ডে ভবনের অনুমোদন, নকশা ও নির্মাণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদর্শনের কথা। ফলে ভবনটির অনুমোদন ও নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে না থাকার বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে ভবন মালিক এম ইসলাম নিউটনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নকশা লঙ্ঘন কিংবা অনুমোদনের বাইরে দুটি দোকান নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। বরং নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও সিনিয়র সিটিজেন।’ তবে তাঁর এই পরিচয়ের বাইরে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবং প্রতিবেদকের সাথে সহযোগীতা ও সৌজন্যমূলক আচরন করেননি বলেও জানা যায়।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভবন মালিককে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের পর জানতে চাওয়া হয়—সতর্কতার পরও ভবনটির নির্মাণকাজে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ নিশ্চিত করতে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? সতর্ক করার পরও যদি নকশার ব্যত্যয় ঘটে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
প্রশ্নের উত্তর তিনি বলেন, রাজউকের নির্মাণবিধি নকশা লঙ্ঘন করা হয়েছে, তাই রাজউকের নির্মাণবিধি অনুযায়ী আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন, ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শুধু সতর্কতা যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি ভবনটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের পূর্ণাঙ্গ মিল যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ছাদের ওপর নির্মিত কলামের উদ্দেশ্য, অভিযোগ ওঠা দুটি দোকানের অনুমোদন এবং ভবনটির সার্বিক নির্মাণবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় এই ধরনের অনিয়ম বৃদ্ধি পেতে থাকবে।
নগর পরিকল্পনা, জননিরাপত্তা ও ভবনের কাঠামোগত শৃঙ্খলা রক্ষা আইনি ভিত্তি। তাই ব্যক্তি-পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান নয়, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন ও অনুমোদিত নকশার যথাযথ অনুসরণই হওয়া উচিত।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর