৫ আগস্ট ২০২৪–এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রকৌশলী ও পরিবেশ পরামর্শক মোঃ মাহমুদ হোসেনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে হুমকি, হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের মুখে রয়েছেন।
মোঃ মাহমুদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং শিল্প অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে কাজ করে আসছেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি অতীতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পলিটেকনিক শাখায় সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ তাঁতী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সূত্র জানায়, ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে তাকে “বিশ্বাসঘাতক” আখ্যা দিয়ে তার ছবি প্রকাশ করা হয়, যা পরবর্তীতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফোনকলের মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে একাধিকবার তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসে (মিরপুর, উত্তরা, তেজগাঁও ও মতিঝিল এলাকায়) অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা গিয়ে ভীতি প্রদর্শন, কর্মচারীদের হুমকি এবং কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা ঘটে ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে, যখন কয়েকজন ব্যক্তি তার মিরপুরের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয় এবং শারীরিক আক্রমণের চেষ্টা করে। এ সময় তার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান উপস্থিত ছিল এবং এতে সে মানসিকভাবে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্রমাগত হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি ও তার পরিবার একাধিকবার বাসস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হন এবং আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
পেশাগত ক্ষেত্রেও তিনি চাপে পড়েন বলে জানা যায়। পরিবেশগত আইন ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে কাজ করার কারণে তিনি কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এসব গোষ্ঠী তার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে।
তিনি বিভিন্ন থানায় অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। বরং তাকে বিষয়টি আর না বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই পরিস্থিতিতে তিনি মানসিক চাপের পাশাপাশি শারীরিক সমস্যায়ও আক্রান্ত হন এবং ২০২৫ সালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ট্রমাটোলজি অ্যান্ড অর্থোপেডিক রিহ্যাবিলিটেশন (নিটোর)-এ চিকিৎসা নেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তার পক্ষে দেশে নিরাপদভাবে বসবাস বা পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয় বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশে পড়তে পারে
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর