বৈশ্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় গত তিন দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, দূষণকারীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের নীতিও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে এবং ধনী দেশগুলো এখনো যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না।
পরিবেশ সুরক্ষায় বৈশ্বিক উদ্যোগ ও আলোচনায় গত তিন দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, দূষণকারীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতি দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়িত হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা ‘চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ’ আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে দেশীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জাতিসংঘে পরিবেশ বিষয়ে প্রায় ৩৫ বছর আগে দেওয়া নিজের একটি ভাষণের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় আগে বাংলাদেশে পরিবেশ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। তখন পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে বৈশ্বিক পরিবেশ পরিস্থিতি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘পলিউটার পে প্রিন্সিপল’ বা দূষণকারীই ক্ষতিপূরণ দেবে—এই নীতিটি ৩৫ বছরেও সুরাহা হয়নি। ধনী দেশগুলো এখনো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। তবে এ ক্ষেত্রে ইউরোপের দেশগুলো বেশ সচেতন।
জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দেশটি একসময় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দূষণকারী ছিল। বর্তমানে তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণে অনেক বেশি সচেতন হয়েছে।
জলবায়ু অর্থায়ন ও ঋণের সঠিক ব্যবহার জরুরি
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ঋণ নেওয়া নিজে কোনো বড় সমস্যা নয়; বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। দেশ সব সময় ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছে।
এর পেছনে বাংলাদেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট অর্থনীতির প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ খাত কোটি কোটি মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রেখেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে যথাযথভাবে বিনিয়োগ করা গেলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হতে পারে।
উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যের তাগিদ
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাকে জনপ্রতিনিধিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ আরও রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও শিল্পকারখানা চায়। মাঠপর্যায়ে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন উন্নয়নকাজ বন্ধ করার কথা বললে মানুষ তা সহজে মেনে নেবে না। তাই একদিকে জনগণের চাহিদা পূরণ করতে হবে, অন্যদিকে পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে পৃথিবীর পরিবেশের ক্ষতি এড়াতে হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় তিন দশক আগে বিশ্বব্যাংকের অনুমোদিত একটি বড় প্রকল্প নেপালের সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারত। তবে পরিবেশবাদী ও স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।
বর্তমান জনগণের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার উপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করতে চায়।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর