বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত একটি সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পর কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর থেকে ঠাকুরপাড়া পর্যন্ত ৩০০ মিটার সড়ক পাকাকরণ কাজ করছে মেসার্স মা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলজিইডির অধীনে প্রায় ৩৯ লাখ ৫১ হাজার ২১৬ টাকা ব্যয়ে এ কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মান অনুযায়ী ৫০ মিলিমিটার (প্রায় ২ ইঞ্চি) ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি আকারের নিম্নমানের ইটের টুকরা ব্যবহার করা হয়েছে। বড় আকারের এসব খোয়া দিয়ে ইতিমধ্যে মেকাডম (বেজ) প্রস্তুতের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।গত বছরের মে মাসে এই সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করেন। যা শেষ হওয়ার কথা ছিলো চলতি বছরের মার্চ মাসে, কিন্তু কাজের অর্ধেক সম্পূর্ণ না হওয়ায় আবার তিন মাস মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঠিকাদার জোরপূর্বক নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগেও খোয়া খারাপ দেওয়ায় কাজে বাধা প্রদান করা হলেও পরে আবার একইভাবে কাজ শুরু করা হয়। বিষয়টি নিয়ে তারা উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান ঘটনাস্থলে লোক পাঠান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, খোয়ায় এক নম্বর ও দুই নম্বর ইট মিশ্রণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভালো মানের ইট পাওয়া কঠিন। কাজটি অনেক আগে শুরু হওয়ায় কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফজলে রাব্বী বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে খোয়ার মান খারাপ পেয়েছি। এজন্য কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকালের মধ্যে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করে নতুন মানসম্মত খোয়া ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।