বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি: সালাহউদ্দিন আহমদ
সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ; রাষ্ট্রপতিকে ‘শেষ অপশন’ না রাখার পক্ষে মত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং কারা এতে থাকবেন—তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মতামত ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে স্টাডি করে এমন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি গ্রহণ করতে চাই, যেটা বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকবে।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও সদস্যদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই আসবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা ধরনের প্রস্তাব আসতে পারে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের মতামতও নেওয়া হবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধানে রাষ্ট্রপতিকে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাখার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ নিয়ে অতীতে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তাই রাষ্ট্রপতিকে ‘সর্বশেষ অপশন’ হিসেবে না রাখাই ভালো হবে বলে কমিটি মনে করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে কেউ সহজে এ ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে না পারেন, সেই বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি হচ্ছে—মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদেরসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, বিচার ত্বরান্বিত করতে সরকার আন্তরিক। বিচারপ্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে এবং নির্ধারিত আইন অনুযায়ী আদালত কাজ করবে। তদন্ত, প্রসিকিউশন ও অভিযোগ গঠনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কাজগুলো দ্রুততার সঙ্গে করা হবে বলেও জানান তিনি।
কমিটির বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি, আহত জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন সংগঠনের মোট ৬৩ জন অংশ নেন। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা ও দায়মুক্তি, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন।
আলোচনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে যুক্ত করার প্রস্তাব আসে। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের হয়রানি ও আইনগত জটিলতা নিরসন এবং তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাসহ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান রাখার বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি ওঠে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমন্ত্রিত অতিথিদের দেওয়া প্রস্তাবগুলো কমিটির বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচনার বাইরে কারও লিখিত প্রস্তাব থাকলে তা কমিটির কাছে পাঠানোর জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অতিথিরা জুলাই ও গণ-অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এসেছে।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার জন্য করা আইনটি অধ্যাদেশ থেকে আইনে পরিণত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে আসিনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, আইন বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব আশা করছি। তাদের মতামত পাওয়ার পরই কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।’
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সাকিলা ফারজানা অংশ নেন।