• ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আমাদের সারের কোনো সংকট নেই : কৃষি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২৫, ১৫:০২ অপরাহ্ণ
আমাদের সারের কোনো সংকট নেই : কৃষি সচিব
সংবাদটি শেয়ার করুন....

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেছেন, আমাদের সারের কোনো সংকট নেই। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ সার প্রয়োজন, সবই মজুত রয়েছে। এ মৌসুমেও সারের কোনো ঘাটতি হবে না।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বাস্তবায়িত ‘বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষি সচিব বলেন, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে এক মৌসুমে একটি মাত্র ফসল হতো, এখন সেখানে ন্যূনতম তিনটি ফসল হচ্ছে। একসময় এই অঞ্চলে খাদ্যের অভাব ও মঙ্গা ছিল, এখন এখানকার মানুষ শুধু নিজেদের চাহিদা পূরণ করছে না, বরং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও খাদ্য সরবরাহ করছে।

তিনি আরও বলেন, একসময় দক্ষিণবঙ্গকে খাদ্যের ভান্ডার বলা হতো, এখন উত্তরবঙ্গ সে অবস্থানে এসেছে। এ ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করতে কৃষি মন্ত্রণালয় নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প উত্তরবঙ্গের কৃষিকে এগিয়ে নেবে এবং মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, সার নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা জরুরি। সার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কৃষকরা তা পাচ্ছেন। তবে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জমির ক্ষতি করে এবং কৃষকের অর্থের অপচয় ঘটায়।

তিনি জানান, কৃষকদের সচেতন করতে একটি খামারি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এতে জমির প্রকারভেদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সারের পরিমাণ কৃষক জানতে পারবেন। তিনি বলেন, “আমাদের সার ২৭ থেকে ৩০ টাকায় কৃষকরা পান, অথচ এর বাজারমূল্য ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। এক কেজি সারের দাম প্রায় তিনগুণ বেশি। যেখানে জমিতে ৮ কেজি সার প্রয়োজন, সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে ২৭-২৮ কেজি। তাই আমরা সারের সঠিক ও প্রমিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রচারণা চালাচ্ছি।”

কৃষি সচিব বলেন, বরেন্দ্রসহ কৃষি সম্প্রসারণের বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাদ্যের নিরাপত্তা, পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

এ সময় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক তারিকুল আলম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শামসুল হোদা, নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা খানম মলি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভোর/রিপন/আইটি