
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল আবারও নেমেছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ অভিযানে। তবে এবারের বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সমীকরণ, যেখানে যেকোনো পরিণতিতেই ‘হেক্সা’ শব্দটি জড়িয়ে থাকবে সেলেসাওদের সঙ্গে। পার্থক্য শুধু এতটুকুই—একটি হবে গৌরবের প্রতীক, অন্যটি হতাশার ইতিহাস।
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সর্বশেষ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে এবার মাঠে নামছে নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহাসহ বর্তমান প্রজন্মের তারকারা। যদি তারা বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলতে সক্ষম হয়, তাহলে সেটিই হবে ব্রাজিলের ইতিহাসে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা। ফুটবল ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে জার্সিতে যুক্ত হবে ষষ্ঠ তারকা, যা বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
অন্যদিকে ব্যর্থতার গল্পও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। ২০০২ সালের পর ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২—টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়েছে ব্রাজিল। ফলে এবারও যদি তারা ট্রফি ছুঁতে না পারে, তাহলে টানা ছয় বিশ্বকাপ শিরোপাহীন থাকার এক নতুন এবং বিব্রতকর রেকর্ডের মালিক হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
অর্থাৎ ব্রাজিলের সামনে এখন দুই ধরনের ‘হেক্সা’। একটি বিশ্বকাপ জয়ের মহিমায় উজ্জ্বল, অন্যটি দীর্ঘ ব্যর্থতার প্রতীক। তাই এবারের আসর সেলেসাওদের জন্য শুধুমাত্র একটি টুর্নামেন্ট নয়; বরং নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লেখার সুযোগ।
গত দুই দশকে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বারবার হোঁচট খেয়েছে ব্রাজিল। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী পরাজয় আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এছাড়া বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও বিদায়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এসব ব্যর্থতা বারবার থামিয়ে দিয়েছে বহু কাঙ্ক্ষিত ‘হেক্সা’ মিশন।
তবে এবারকার দলটিকে নিয়ে আশাবাদী সমর্থক ও বিশ্লেষকরা। একদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহার গতি, সৃজনশীলতা এবং আক্রমণভাগের ধার, অন্যদিকে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতি দলকে দিয়েছে প্রয়োজনীয় ভারসাম্য। দলীয় সমন্বয়, মানসিক দৃঢ়তা এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাই নির্ধারণ করতে পারে তাদের ভাগ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিভা বা সামর্থ্যের দিক থেকে ব্রাজিল এখনো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। তবে বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলানোর দক্ষতাই হতে পারে সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্যকার সবচেয়ে বড় পার্থক্য।
এখন দেখার বিষয়, সেলেসাওরা কি অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে এবং ইতিহাসের প্রথম ‘গৌরবের হেক্সা’ অর্জন করবে, নাকি আবারও ব্যর্থ হয়ে দীর্ঘ শিরোপাখরার ‘হতাশার হেক্সা’ রেকর্ডে নাম লেখাবে। উত্তর লুকিয়ে আছে সময়ের হাতেই, আর কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের প্রত্যাশা—বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটি আবারও ফিরে আসুক সিংহাসনে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর