ডেঙ্গুর পাশাপাশি মশাবাহিত রোগের তালিকায় এবার দ্রুত ছড়াচ্ছে চিকুনগুনিয়া। এটি ভাইরাসজনিত রোগ যা সাধারণত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। প্রধান উপসর্গ হলো—উচ্চ জ্বর ও তীব্র গিঁটের ব্যথা। রোগ সেরে যাওয়ার পরও এ ব্যথা সপ্তাহ বা মাসজুড়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু অঞ্চলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার রোগীর সংখ্যা প্রায় সমান হলেও রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে সংক্রমণের তীব্রতা বেশি।
চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। এডিস এজিপ্টাই মশার মাধ্যমে এটি ছড়ায়, যেটি ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসও বহন করে। প্রাণঘাতী না হলেও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আক্রান্তের তথ্য:
🔹 আইইডিসিআরের তথ্য মতে, ঢাকায় প্রথম পাঁচ মাসে (১ জানুয়ারি–২৮ মে) ৩৩৭ নমুনার মধ্যে ১৫৩টিতে চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়।
🔹 চট্টগ্রামে জুন-জুলাইতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬৬৯ জন।
🔹 জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে পরীক্ষিত ১৭১ নমুনার মধ্যে ১৪০টিই পজিটিভ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করে জানিয়েছে, ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত:
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, রোগী সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেরে ওঠে। তবে বয়স্ক, হৃদরোগী, কিডনি রোগী, ক্যানসার রোগী ও গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কেবল প্যারাসিটামল গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আইইডিসিআরের পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন জানান, জ্বর তিন দিনের মধ্যে না কমলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ:
➡️ নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তবে জ্বর ও ব্যথা উপশমের ওষুধ খেতে হবে।
➡️ প্রচুর তরল খাবার ও বিশ্রাম জরুরি।
➡️ মশারি ব্যবহার, লম্বা জামা-প্যান্ট পরা, মশা প্রতিরোধী স্প্রে ব্যবহার এবং আশেপাশে জমা পানি সরিয়ে রাখা জরুরি।
ব্যথা উপশমে করণীয়:
✅ পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।
✅ আক্রান্ত গিঁটে গরম পানির ব্যাগ দিয়ে সেঁক দিতে হবে।
✅ হাইড্রেটেড থাকতে হবে।
✅ প্রোটিন, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
✅ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে হালকা ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপির পরামর্শ নিতে হবে।