শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার আশঙ্কায় দিল্লিতে প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রায় ২ হাজার ৬০০ সরকারি কর্মকর্তার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে সন্দেহ বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই সময় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, পদোন্নতি ও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ভারতের ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ ছিল। সচিব থেকে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের গুরুত্ব দেওয়া হতো। একই সময়ে বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত প্রায় ২ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা দিল্লিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে যারা এখনো সরকারি চাকরিতে রয়েছেন, তাদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে বলে সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকে প্রশাসনের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপপরিচালক স্থানীয় সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মন্ত্রণালয়ের সমমর্যাদার প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনকে ভারতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরে তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়।
এ ছাড়া ২০১৭ সালের এপ্রিলে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং ভারতের ন্যাশনাল জুডিশিয়াল একাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় কিছু বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাও ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
তবে ২০২৫ সালে ৫০ জন বিচারক ভারতে প্রশিক্ষণ নিতে যাননি। পরে তাদের প্রশিক্ষণসংক্রান্ত আদেশ বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৯ সালে ভারত-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) পঞ্চম বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তির আওতায় পরবর্তী ছয় বছরে ভারত বাংলাদেশের ১ হাজার ৮০০ সরকারি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
বর্তমানে ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়া কর্মকর্তাদের কেউ সচিব, কেউ অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদেও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান ইনকিলাবকে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দেশ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়া বা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শর্ত হতে পারে না। লিখিত বা অলিখিতভাবে এমন কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বাতিল করা প্রয়োজন। বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নেন। পরে সেখান থেকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনে এখনো আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে চিহ্নিত কিছু কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় নজরদারি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা চীন, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং আরও প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে থাকা ভারতপন্থী ও আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের একটি তালিকা গোয়েন্দারা চূড়ান্ত করেছে। এ কাজে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংগঠন পলিসি ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ সোসাইটি (পিএমআরএস) সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলগুলোর দাবি, ভারতের যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের মানুষ মোকাবিলা করবে।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর