• ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামে ‘হানি ট্র্যাপ’ একটি ঘৃণ্য অপরাধ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত আগস্ট ২৪, ২০২৫, ১৪:৪৫ অপরাহ্ণ
ইসলামে ‘হানি ট্র্যাপ’ একটি ঘৃণ্য অপরাধ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

সত্যকে আড়াল করে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দুর্নীতি বা অপরাধ সংঘটনে প্রেমের ফাঁদ পাতাই হলো ‘হানি ট্র্যাপ’। কোরআনের সুরা বাকারার ৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে— “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ো না এবং জেনেবুঝে সত্য গোপন কোরো না।”

হানি ট্র্যাপ মানে হলো, ভালোবাসা বা যৌনতার প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে মিথ্যা সম্পর্কে জড়িয়ে তথ্য বের করা, বশীভূত করা বা আর্থিক ফায়দা হাসিল করা। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে টার্গেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফাঁদে ফেলা হয় এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এ ধরনের অপকৌশলে একজন প্রকৃত মুমিন কখনো সাড়া দেয় না। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী— “বলো, আমি আশ্রয় চাই… কুমন্ত্রণা দানকারীর অনিষ্ট থেকে।” (সুরা নাস : ১-৬)

সামান্য ভুলের কারণে মানুষের সারা জীবনের সাধনা ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণার ফাঁদ, বিতর্ক, বিভেদ ও অনৈতিক প্রলোভন থেকে সবসময় সতর্ক থাকা মুমিনের দায়িত্ব। কোরআনে এসেছে— “হে মুমিনরা, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।” (সুরা নুর : ২১)

হানি ট্র্যাপ ও সুরা নুরের পটভূমি

উম্মে মাহজুল (রা.)-এর বর্ণনা অনুসারে এক ভ্রষ্ট নারী ‘আনাক’ এক সাহাবিকে প্রলুব্ধ করেছিলেন এবং বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। এ সময় সুরা নুরের ৩ নম্বর আয়াত অবতীর্ণ হয়— “ব্যভিচারিণী নারীকে ব্যভিচারী বা মুশরিক ছাড়া আর কেউ বিয়ে করে না, আর এটি মুমিনদের জন্য হারাম।”

হালাল জীবিকা বনাম প্রতারণা

হানি ট্র্যাপ হলো প্রতারণামূলক জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন সম্মানজনক জীবিকা— “রিজকান কারিমা।” এর অর্জন হতে হবে বৈধ ও পবিত্র উপায়ে— “হালালান তাইয়্যেবা।” (সুরা বাকারা : ১৬৮)

প্রতারক বা ধোঁকাবাজদের জন্য কোরআনে কঠিন শাস্তির ঘোষণা আছে। (সুরা মুতাফিফফিন : ১)

রাসুল (সা.) বলেছেন, “প্রতারক আমার দলভুক্ত নয়।” (মুসলিম)
তিনি আরো সতর্ক করে বলেছেন, এমন এক সময় আসবে, যখন মানুষ হালাল-হারামের তোয়াক্কা না করে সম্পদ উপার্জন করবে। (বুখারি)

আইনের দৃষ্টিতে প্রতারণা

বাংলাদেশের দণ্ডবিধি অনুযায়ী—

  • ৪০৬ ধারা: বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধ

  • ৪১৫ ধারা: প্রতারণার সংজ্ঞা

  • ৪২০ ধারা: প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি অর্জনের জন্য শাস্তি

সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—“প্রথমে লাশের পেট ফোলে।” তাই মানুষের যা খায় তা হালাল না হারাম, সেই বিষয়ে সচেতন হওয়া আবশ্যক।