আজকের ব্যস্ত জীবনে নিজের শরীরের দিকে নজর দেওয়ার সময় যেন নেই বললেই চলে। অনিয়মিত খাবার, ঘুম বা কাজের সময়সূচির কারণে শরীর নানা সংকেত দেয়, কিন্তু আমরা তা উপেক্ষা করি। যেমন ধরুন, হঠাৎ করে পেটে ব্যথা শুরু হলো, কিছুক্ষণ পর আবার ঠিকও হয়ে গেল—আমরা ভাবি, এমনিতেই ভালো হয়ে গেছে। কিন্তু সেই ব্যথা যদি নিয়মিত হতে থাকে, সপ্তাহ বা মাসজুড়ে চলতে থাকে, তখন বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এটি হতে পারে কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যার লক্ষণ। চলুন, জেনে নিই নিয়মিত পেটব্যথার সম্ভাব্য কারণগুলো।
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম
বৃহৎ অন্ত্রে সমস্যা তৈরি হয়। পেটে ব্যথা, গ্যাস হওয়া, ঘন ঘন পায়খানার চাপ এর লক্ষণ।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স
খাবার হজম না হয়ে উপরের দিকে উঠে এলে টক ঢেকুর, বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।
গ্যাস্ট্রাইটিস ও পেপটিক আলসার
পেটের আস্তরণে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হয়, যা সাধারণত বেশি ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে হতে পারে।
সিলিয়াক রোগ
যাদের গ্লুটেন অ্যালার্জি আছে, তাদের গম বা বার্লি জাতীয় খাবার খেলেই পেট ব্যথা, ডায়রিয়া ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
ডাইভার্টিকিউলাইটিস
বৃহৎ অন্ত্রে ছোট পাউচ বা থলির মধ্যে সংক্রমণ হয়। বা দিকের তীব্র ব্যথা হয় সাধারণত।
ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ
ক্রোনস ডিজিজ ও আলসারেটিভ কোলাইটিসের মতো রোগ অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে। যার ফলে পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে।
গলব্লাডারে পাথর
ডান দিকের ওপরের পেটে ব্যথা, বিশেষ করে বেশি তেল-মসলা খাওয়ার পর।
কিডনিতে পাথর
তীব্র ব্যথা, পিঠ থেকে তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
হার্নিয়া
পেটের কোনও অংশ ফুলে ওঠে, কাশি দিলে বা ভারী কিছু তুললে ব্যথা বাড়ে।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস
নাভির আশেপাশে ব্যথা শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ডানদিকে চলে যায়, সঙ্গে জ্বরও হয়।
ক্যান্সার
নিয়মিত পেটব্যথার সঙ্গে যদি ওজন হ্রাস, রক্তপাত বা অরুচি থাকে, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
করণীয় কী?
পেটে ব্যথা নিয়মিত হতে থাকলে তা কোনও ছোটখাটো সমস্যা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। ব্যথা কোথায় হচ্ছে, কত দিন ধরে হচ্ছে, খাওয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না—এসব পর্যবেক্ষণ করুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।