দীর্ঘ প্রায় দুই দশক নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার গ্রহণের একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার দুই মাস না পেরোতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। একসময় তার বাবা-মা যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই তিনিও দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই শান্ত স্বভাব নেতার জন্য হবে এক বিস্ময়কর রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন। গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তার দল বিএনপির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তারেক রহমান বীরোচিত সংবর্ধনা পান।
বর্তমানে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে রয়েছেন। শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানের মা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের শাসনভার পরিচালনা করেন। রয়টার্স জানায়, তারেক রহমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নতুনভাবে সাজাতে চান, যাতে বিনিয়োগ বাড়ে কিন্তু কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা তৈরি না হয়—যা শেখ হাসিনার নীতির বিপরীত হিসেবে বিবেচিত। তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো, পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো খাতে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই টার্ম বা ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত ঘটেছে যে সময় কীভাবে কেটেছে, তা নিজেও বুঝে উঠতে পারেননি বলে জানান তিনি। বিএনপির কার্যালয়ে কন্যা জাইমা রহমানকে পাশে নিয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, দেশে ফেরার পর প্রতিটি মিনিট কিভাবে কেটেছে, তিনি নিজেও জানেন না। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম তারেক রহমানের।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি এবং পরে বস্ত্র ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায় যুক্ত হন। দেশে ফেরার পর তিনি নিজেকে এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজের পরিবারের ওপর হওয়া নিপীড়নের ঊর্ধ্বে উঠে সামনে তাকাতে চান। তিনি বলেন, প্রতিশোধ মানুষকে ধ্বংস করে, এতে দেশের কোনো মঙ্গল হয় না; এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা। শেখ হাসিনার আমলে তারেক রহমান একাধিক মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হন এবং অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন; তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সব মামলায় খালাস পান।
লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি দেখেছেন, একের পর এক নির্বাচনে বিএনপি কোণঠাসা হয়েছে, নেতারা কারাবন্দি হয়েছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন এবং দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে ফিরে তিনি সংযত ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা ফিরিয়ে আনা ও প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন, যা বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রার্থী নির্বাচন, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা—সবকিছুই তারেক রহমান সরাসরি তদারকি করছেন। তার ভাষায়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও তা টিকিয়ে রাখাই হবে তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার; গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমেই দেশ পুনর্গঠন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব।
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এম.জি.আর.নাছির মজুমদার, সম্পাদক : এস এম রফিকুল ইসলাম, যোগাযোগ ঠিকানা: সেঞ্চুরি সেন্টার: খ-২২৫, প্রগতি সরণি, মেরুল,বাড্ডা, ঢাকা-১২১২।, ফোন নং : +৮৮-০২-৫৫০৫৫০৪৭ | মোবাইল নং: ০১৭১৬৩৭১২৮৬
www: dailybhor.com
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোর