বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ব্যারেল ১১৭ ডলার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ছাড়ায়। সংঘাত আরও তীব্র হলে তেলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা, লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত শুক্রবার তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছায়। শনিবার একপর্যায়ে দাম কমে ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে আসে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে।
চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭৯ দশমিক ০২ শতাংশ। অন্যদিকে, গত এক মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ এবং এক বছরে বেড়েছে ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
গত শুক্রবারের ফিউচারস চুক্তির দরও ভবিষ্যতে তেলের দাম চড়া থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব চুক্তির মূল্য অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। এ বিষয়ে ‘খুব শিগগিরই’ কিছু ঘটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলে ইরানে আবারও হামলা জোরদার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, তাঁদের সামরিক বাহিনী যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শিগগিরই ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। হুথিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো কর্মীদের প্রধান কার্যালয় ছেড়ে যেতে বলেছে। পাশাপাশি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্রে সরবরাহকারী একটি পাইপলাইনের ভাল্ভ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর ফলে হামাদা তেলক্ষেত্রে দৈনিক উৎপাদন ৫০ হাজার ব্যারেল এবং তাহারা তেলক্ষেত্রে ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে।