• ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, নতুন অধ্যায়ে জিয়া পরিবারের চার দশকের সম্পর্ক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০০:২৯ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ, নতুন অধ্যায়ে জিয়া পরিবারের চার দশকের সম্পর্ক
সংবাদটি শেয়ার করুন....

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক প্রবেশ করবে নতুন এক অধ্যায়ে।

১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছিল ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এরপরও বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন তিনি। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারক সভা, ২০০২ সালের শিশু বিষয়ক বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালের ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায়ও বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন তিনি।

এবার সেই একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জলবায়ু বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

এর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ও থাকবে। আর নিউইয়র্ক সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হবে।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘Restoring trust, managing transformation: A United Nations that delivers for all’।

জাতিসংঘের সূচি অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর। চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং ২৮ সেপ্টেম্বর আবারও অধিবেশন বসবে।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘে শুরু হয়েছিল জিয়া পরিবারের উপস্থিতির অধ্যায়।

১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন খালেদা জিয়া।

আর এবার ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া পরিবারের সেই উপস্থিতিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।