• ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেনাপোল বন্দরে খালি ভারতীয় ট্রাক থেকে ‘বকশিশ’ আদায়ের অভিযোগ, স্কেলকর্মীর স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২০, ২০২৬, ২৩:০৫ অপরাহ্ণ
বেনাপোল বন্দরে খালি ভারতীয় ট্রাক থেকে ‘বকশিশ’ আদায়ের অভিযোগ, স্কেলকর্মীর স্বীকারোক্তি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের টিটিআই মাঠের ৫ নম্বর ওজন স্কেলে ভারতীয় খালি ট্রাক থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্কেলে দায়িত্বে থাকা ওয়্যারহাউজ সুপারিন্টেন্ডেন্ট সোহেল রানার বিরুদ্ধে ট্রাকপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভারতীয় ট্রাকচালক। তাঁদের দাবি, টাকা না দিলে অযথা দীর্ঘ সময় ট্রাক আটকে রাখা হয়। যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি জোরপূর্বক আদায় নয়, চালকেরা স্বেচ্ছায় ‘বকশিশ’ হিসেবে অর্থ দেন।

সরেজমিনে টিটিআই মাঠে গিয়ে কয়েকজন ভারতীয় ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পণ্য খালাস শেষে ভারতে ফেরার আগে খালি ট্রাকের ওজন নেওয়ার সময় তাঁদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। অনেক চালকের কাছে বাংলাদেশি টাকা না থাকলে ভারতীয় রুপিও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

বন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০টি ভারতীয় খালি ট্রাক বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে ফিরে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা আদায় করা হলে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে এই হিসাব সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে; এর স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি।

ভারতীয় ট্রাকচালক মাহাদি আমিন বলেন, “সারাদিন রোদ-বৃষ্টিতে কাজ শেষে ফেরার সময় স্কেলে এসে আবার ঝামেলায় পড়তে হয়। চাহিদামতো টাকা না দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি সাইডে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েই বের হতে হয়।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বন্দরের এক ব্যক্তি বলেন, “এভাবে যদি নিয়মিত অর্থ আদায়ের চাপ চলতে থাকে, তাহলে ভারতীয় ট্রাকচালকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। এতে যেকোনো সময় অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়্যারহাউজ সুপারিন্টেন্ডেন্ট সোহেল রানা ট্রাকচালকদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, “এটি কোনো ঘুষ নয়। ভারতীয় খালি ট্রাকের চালকেরা খুশি হয়ে বকশিশ হিসেবে টাকা দেন।”

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক ওবাইদুর রহমান বলেন, “ভারতীয় খালি ট্রাক ওজন করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের বিধান নেই। যদি বকশিশ বা অন্য কোনো নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্দর এলাকায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের সুনাম রক্ষা পাবে।