• ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে চাকরির কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, পাওনা চাইতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন আহত

বেনাপোল(যশোর) সংবাদদাতা
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে চাকরির কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, পাওনা চাইতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৩ জন আহত
সংবাদটি শেয়ার করুন....

যশোরের শার্শায় সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই টাকা ফেরত চাইতে গেলে প্রবাসীর বাবা, ছেলে ও এক স্বজনকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে শার্শা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার বসতপুর গ্রামের শাহাজান মোল্যা (৬০)।

শাহাজান মোল্যার অভিযোগ, একই গ্রামের শাহাজালালের সঙ্গে গত ১০ জানুয়ারি তাঁর ছেলে আবু রায়হান রিপনকে সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। চুক্তির পুরো টাকা পরিশোধের পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রিপনকে তিন মাসের টুরিস্ট ভিসায় সৌদি আরবে পাঠানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার পর রিপনকে কোনো চাকরি দেওয়া হয়নি। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কাজের ব্যবস্থা না হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময় কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রায় ছয় মাসেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি। পরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনেন তাঁর বাবা।

শাহাজান মোল্যা বলেন, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে তিনি ছেলে রিপন ও স্বজন আলাউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে শাহাজালালের কাছে পাওনা ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত চাইতে যান। এ সময় শাহাজালাল, আল আমিন, তাঁর স্ত্রী হাসিনা খাতুন ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার হেফাজউদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে তাঁরা শাহাজান মোল্যা, তাঁর ছেলে রিপন ও আলাউদ্দিনকে গালিগালাজ ও মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রিপনকে ভর্তি করা হয় এবং অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। টাকা ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শাহাজান মোল্যা।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহাজালাল। তিনি বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমি তাঁকে সৌদি আরবে নিয়ে গেছি। সেখানে কাজ না পেলে আমার কী করার আছে? তাঁর ছেলে অপেক্ষা না করে দেশে ফিরে এসেছে। আমার পক্ষে টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁদের কোনো মারধর করা হয়নি, শুধু কথা-কাটাকাটি হয়েছে।’

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ‘অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।