দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গৃহীত কার্যক্রম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৮, ২০২৬, ০০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সর্বশেষ তথ্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাসমূহ চলমান আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। অধিক ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা-৬টি, যথা: সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ। জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রাম কর্তৃক বন্যা চলাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার চলমান রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ নামক স্থানে খোঁয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার মোট ৪টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রাম আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ দশমিক ৫০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে, কোনো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলা তথ্য অফিস, হবিগঞ্জ কর্তৃক সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, খাগড়াছড়ির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট রাতে ক্লাউড ব্লাস্টের কারণে একটানা তিন ঘণ্টায় ১০৩ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে চেঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধিতে খাগড়াছড়ি সদরের গঞ্জপাড়া, মুসলিম পাড়া, মেহেদীবাগ, শান্তিনগর, খবংপড়িয়া, শব্দমিয়া পাড়াসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।
এছাড়া মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধিতে দীঘিনালা উপজেলার কবাখালী, মেরুং এবং বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। দীঘিনালা-সাজেক এবং দীঘিনালা-মেরুং সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আক্রান্ত এলাকার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়। বৃষ্টিতে কৃষি, মৎস্য ও পশুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে নদীর পানি কমতে শুরু করায় প্লাবিত এলাকা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় আবারও কিছু সময়ের জন্য প্রচন্ড বৃষ্টি হয়। এসময় বজ্রপাতে মহালছড়ি উপজেলায় দু’জন ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়। তবে আজ সকালে বৃষ্টি নেই।
খাগড়াছড়ি হতে দীঘিনালা রোডে পাহাড়ধস হয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক বিভাগের সহায়তায় মাটি সরানো হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিছু কিছু স্থানে ছোট ছোট আকারে পাহাড়ধস হয়েছে বলে জানা গেছে। অধিকাংশ এলাকায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেনি। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে জেলা তথ্য অফিস কর্তৃক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, কক্সবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বন্যা-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে জরুরি বার্তা নিয়ে মাইকিং প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলায় বন্যা পরিস্থিতি নেই। স্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করছে। তবে কাওয়াদীঘী হাওড়ের পানি না নামায় এ অঞ্চলের কৃষকরা আমন ধানের চাষ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছে। জেলা তথ্য অফিস, মৌলভীবাজার কর্তৃক বন্যাকালীন ও বন্যা-পরবর্তী সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
জেলা তথ্য অফিস, রাঙামাটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। জনসচেতনতা তৈরি করতে রাঙামাটি জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং উঠান বৈঠক কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চলছে।
জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ১০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বন্যার পানি নেমে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্র হতে লোকজন তাদের বাসা-বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে। জেলা তথ্য অফিস, বান্দরবান কর্তৃক ভারী বৃষ্টির প্রথম থেকেই পাহাড়ধস, বন্যা এবং বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অফিস, লামার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী মেঘলা আকাশ এবং ভ্যাপসা আবহাওয়া বিরাজ করেছে। সকাল থেকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বন্যা, পাহাড়ধস বা ভূমিধসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তথ্য অফিস, লামা কর্তৃক বন্যাকালীন সময়ে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
তথ্য অফিস, রামগড়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী রামগড়ে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বর্ষাকাল হওয়ায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কিছু কিছু স্থানে হালকা বৃষ্টি হতে দেখা যায়। হঠাৎকরে টানা ভারী বর্ষণের ফলে ফেনী নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে বর্তমানে বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত পাহাড় ধসের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে পানি জমে থাকতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সড়ক প্রচার/মাইকিং করা হয়েছে।
তথ্য অফিস, পটিয়ার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী পটিয়া উপজেলায় পাহাড়ধস বা ভূমিধস হয়নি। বন্যা পরবর্তী করণীয়সহ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অফিস, কাপ্তাইয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী কাপ্তাই, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি উপজেলার আবহাওয়া আজ স্বাভাবিক থাকবে।