• ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০০:৪১ পূর্বাহ্ণ
১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণী
সংবাদটি শেয়ার করুন....

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:
“কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে বাঁচলে কৃষক, বাঁচবে দেশ। একবিংশ শতাব্দীর বর্তমান প্রযুক্তি-নির্ভর বিশ্বে কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এবং এর উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিকল্প নেই। সনাতন কৃষি জ্ঞান আর আধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ কেবল উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষিতে আকৃষ্ট করবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়নে কৃষি ও কৃষকের অবদান অপরিসীম। কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহিষ্ণু খাতে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষকের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা বিকাশের কোনো বিকল্প নেই।
এমন বাস্তবতায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ৫-৭ নভেম্বর ঢাকায় ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কৃষি গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশেও এ আয়োজন ইতিবাচক অবদান রাখবে। আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ কৃষির বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কৃষক তাঁর শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন, উৎপাদন হবে অধিকতর লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর। কৃষক ও কৃষির সমৃদ্ধির মধ্য দিয়েই সরকার একটি স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
আমি ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।”