
দীর্ঘদিনের বন্ধত্ব, স্মৃতি আর আড্ডার আবেগকে ধারন করে খুলনায় যাত্রা শুরু করেছে “ক্যাফে-৯৮”। ১৯৯৮ সালের এসএসসি ব্যাচের একদল বন্ধুর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই অনন্য আড্ডাস্থলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গত ২১ শে নভেম্বর ২০২৫। শুধু খাবারের দোকান নয় বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, সৃজনশীলতা আর পূর্নমিলনের উম্মুক্ত প্লাটফর্ম হিসাবে সাজানো হয়েছে এই স্থানটি।
খুলনা শহরের অতি পরিচিত শেরে-বাংলা রোডের ৩৬৭ নম্বরে গড়ে উঠা ক্যাফে-৯৮ ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। ক্যাফে-৯৮ এর উদ্যোক্তারা জানান, বহু বছরের বন্ধত্ব ও স্মৃতির বন্ধন থেকেই এই উদ্যোগের সূচনা। ক্যাফে ৯৮ এর উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদ লুকান বলেন, যখনই আমরা ৯৮ ব্যাচের বন্ধুরা একত্রিত হই, তখন হাসি,গল্প আর আপন অনুভূতিতে সময় ভেসে যায়। সেই উষ্ণতা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার চিন্তা থেকেই ক্যাফে-৯৮ এর জন্ম।
নারী উদ্যোক্তা জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি বলেন, ক্যাফে-৯৮ শুধু একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের বন্ধুত্বের স্থায়ী ঠিকানা। তিনি আরো বলেন, ক্যাফে-৯৮ আমাদের বন্ধুত্বের প্রতীক। এখানে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে সবার আন্তরিকতা। এখানে বন্ধুত্বের যে সম্মান আর উষ্ণতা পাওয়া যায় তা হয়তো বিরল। আমি মনে করি এটি খুলনার মানুষের জন্য বন্ধুত্ব ভিত্তিক একটি নিরাপদ ও সৃজনশীল মিলনস্থল।
ক্যাফে উদ্যেক্তা সাবিহা সুলতানা সোনিয়া বলেন, আমরা ৯৮ ব্যাচের বন্ধুরা বছরের পর বছর দূরে থেকেও সম্পর্কটাকে ধরে রেখেছি। ক্যাফে-৯৮ সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। আমার কাছে এটা আমাদের স্মৃতি, হাসি আর গল্পের ঘর।
ক্যাফে উদ্যেক্তা মনজুরুল ইসলাম টপি বলেন, বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগ সত্যিই অনুপ্রেরনাদায়ক। ক্যাফে-৯৮ আমাকে আবার সেই স্কুল জীবনের মুক্ত আড্ডার কথা মনে করিয়ে দেয়।
স্থানীয বাসিন্দারা বলেন ক্যাফে ৯৮ গড়ে উঠেছে এমনভাবে যেখানে পরিবার, তরুণ তরুনী কিংবা বন্ধুদের আড্ডা ও সময় কাটানোর জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশ। আলতাফ হোসেন টিটু নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এই ক্যাফের এক বিশেষ দিক হচ্ছে উদ্যেক্তারা খাবারের মূল্য তালিকায় বিশেষ কৌশলে ৯৮ কে তুলে ধরেছেন। যা এর আগে আমার চোখে পড়েনি।
উদ্বোধনী দিনটি ছিলো উৎসবমুখর পরিবেশ। পুরোনো ৯৮ ব্যাচের সদস্য, শহরের সুধীজন ও খাবারপ্রেমীদের অংশগহনে সন্ধ্যা হয়ে উঠেছিলো আনন্দমুখর। সবাই ক্যাফে-৯৮ এর অভিনত ধারনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার প্রশংসা করেছেন। তাই ক্যাফে-৯৮ খুলনার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে এমনটাই আশা করেছেন উদ্যোক্তা ও খাবারপ্রেমীরা।