• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরান সরকারের নীরবতায় বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১৯:৩৪ অপরাহ্ণ
ইরান সরকারের নীরবতায় বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ‘প্রোপাগান্ডা’?
সংবাদটি শেয়ার করুন....

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং এরই মধ্যে দেশটির প্রায় সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ইরান সরকারের দাবি, এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানি ও মদত রয়েছে।

রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরান সরকার।

এই নীরবতার সুযোগ নিয়েই নিহতের সংখ্যা নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে একজন ইরানি সরকারি কর্মকর্তার বরাত দেয়। তবে ওই কর্মকর্তার নাম বা পদবির কোনো উল্লেখ করা হয়নি। কেবল ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কর্মকর্তা’ বলা হয়েছে, যা এমন গুরুতর দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ, ইরানের কোনো স্বীকৃত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য উৎস এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।

রয়টার্সের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তা উদ্ধৃত করে প্রচার শুরু করে।

এদিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’। তারা দাবি করেছে, শুধু ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাতেই ইরানে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইন্টারন্যাশনালের সম্পাদকীয় বোর্ড সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ঘনিষ্ঠ সূত্র, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের একাধিক সূত্র, মাশহাদ, কেরমানশাহ ও ইসফাহানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস–সংযুক্ত সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য, ফিল্ড রিপোর্ট, চিকিৎসা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শহরের চিকিৎসক ও নার্সদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই তারা দাবি করেছে, এটি ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড, যেখানে মাত্র দুই রাতেই ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

এর আগে মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু বৃহস্পতিবার রাতেই তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে সোমবার তেহরানে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৫৩টি মসজিদ ও ১৮০টি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তার ভাষায়, কোনো প্রকৃত ইরানি নাগরিক কখনো মসজিদে হামলা চালাতে পারে না।

ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেসটিভি দাবি করেছে, সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ইসফাহান প্রদেশেই ৩০ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট গভর্নর।

রবিবার এক বক্তব্যে গভর্নর আলী আহমাদি জানান, সশস্ত্র দাঙ্গায় বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসফাহানের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি মসজিদে অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রাদেশিক শহীদ ফাউন্ডেশন বিভাগের মহাপরিচালক ইব্রাহিম বায়ানি জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী ফার্স প্রদেশে দাঙ্গায় কমপক্ষে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া পুলিশ স্পেশাল ইউনিট কমান্ডার জেনারেল মাসুদ মোদাক্ক রবিবার জানান, সহিংসতায় তার ইউনিটের আটজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।