এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে, সংশ্লিষ্টদের প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ১৮:৪১ অপরাহ্ণ
সংবাদটি শেয়ার করুন....
এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ, সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করাই সরকারের মূল দায়িত্ব। এটি জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যা আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। এই দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করে একে একটি ঐতিহাসিক অর্জনে রূপ দিতে হবে। নির্বাচনের দিন যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কোথাও কোনো ত্রুটি না থাকে। ২০২৬ সালের নির্বাচন এমনভাবে আয়োজন করতে হবে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ধাপে ধাপে প্রস্তুতির পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি হবে চূড়ান্ত পর্যায়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই সর্বোচ্চ নির্দেশ হিসেবে গণ্য হবে এবং সবাইকে সেই নির্দেশনা অনুযায়ী একযোগে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মূল কমান্ডের দায়িত্ব পালন করবে। এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ যুক্ত হয়েছে। বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বিক মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি যেন না থাকে। এবারের নির্বাচন ঘিরে দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক এবং পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন। তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, আমাদেরও সমান গুরুত্ব ও দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির আলোকে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।
ড. ইউনূস বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখছেন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আশা করা যায়, তারা এই মনোভাব থেকে সরে যাবেন না।
সভায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ২৬টি দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৩০০ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তাদের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এবং মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল প্রক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করেছেন।
তিনি বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি এবারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দলীয় প্রতীক, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছুটা বাড়তি সময় লাগবে। এ বিষয়গুলো নিয়ে যেন অপতথ্য বা গুজব ছড়াতে না পারে, সে জন্য গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, নির্বাচনের দিন সব ভোটকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, এবারের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন হলে ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি বলেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে। প্রয়োজনে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করবে। ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর আরও সাত দিন তারা মাঠে থাকবে। আজ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একাধিক টিম ২৪ ঘণ্টা নির্বাচন পরিস্থিতি মনিটরিং ও তথ্য রেকর্ড করবে। বডি ক্যামেরার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা যাবে।
সভায় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব। সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলে এটি বড় ধরনের সাফল্য এনে দেবে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে এবং প্রয়োজনে আরও ঘন ঘন বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।