
জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট ক্ষমতায় এলে মামুনুল হককে মন্ত্রী করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে ১১ দল বিজয়ী হলে ঢাকা-১৩ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং সারা দেশের মানুষ একজন মর্যাদাবান মন্ত্রী পাবে—যিনি সংসদে গিয়ে শুধু একটি আসনের কথা নয়, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, আলেম-ওলামাদের স্বার্থ, আল্লাহর দ্বীন, ইনসাফ ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। এমন একজনকেই এই আসনের জনগণ বুকের ভালোবাসা দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই ১১ দল একত্র হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন থেকেই এই ঐক্য। এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও অপরাধজগতের কারিগরদের বিরুদ্ধে। জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন ইনশাআল্লাহ জনতারই বিজয় হয়।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় যেমন ইন্টারনেট বন্ধ করে অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজও একই অন্ধকার পথে হাঁটার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কার ইশারায় নির্বাচন কমিশন আবার সেই পথে যেতে চাইছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সব ধরনের রেকর্ডিং, ক্যামেরা ও মোবাইল নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের অপকর্ম যেমন মেনে নেওয়া হয়নি, আজও তা মেনে নেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
একই সমাবেশে নাহিদ ইসলামের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যার আগেই যদি এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে আগামীকাল নির্বাচন নয়—নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করতে যারা জটিলতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে এবং এর দায় তাদেরই নিতে হবে।
জামায়াতের আমির আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই—তারা এখনো জেগে আছে। জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের দুঃসাহস কেউ দেখালে তা প্রতিহত করা হবে। ভবিষ্যতেও যদি দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, জুলাইয়ের মতোই তা রুখে দেওয়া হবে।