• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিনটা নির্বাচনে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার কাউকে ভোট দিতে দেয়নি: আসিফ নজরুল

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১৭:১৭ অপরাহ্ণ
তিনটা নির্বাচনে ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার কাউকে ভোট দিতে দেয়নি: আসিফ নজরুল
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দেশের জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেয়নি। কখনো রাতের আঁধারে ভোট হয়েছে, কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীহীন একতরফা নির্বাচন হয়েছে, আবার কখনো ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে ভুয়া ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ফ্যাসিস্ট শক্তি বাংলাদেশের মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের ইলেকটেড ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল এবং জনগণের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে অন্য দেশের কাছে বাংলাদেশকে বিকিয়ে দিয়ে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করেছে।

সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসীম আত্মত্যাগের কারণে আজ দেশ একটি নতুন সময়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে জনগণের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। ভোট দেওয়া মানে হচ্ছে জনগণ নিজেরাই সরকার নির্ধারণ করবে, কে জনপ্রতিনিধি হবে এবং কে সংসদে গিয়ে মানুষের কথা বলবে—সেটি জনগণই ঠিক করবে। আগে এই সিদ্ধান্ত নিতেন শেখ হাসিনা, এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ নিজেরাই তা নির্ধারণ করবে। আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। সবাই যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে, কিন্তু ভোট দেওয়ার সময় অন্যের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা দেওয়া যাবে না। অন্যকে ভোট দিতে বাধা দিলে সেই আচরণ ফ্যাসিবাদেরই সমান। তাই সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত রাখতে হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণের সময় আমরা তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছিলাম—সংস্কার, গণহত্যাকারীদের বিচার এবং নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, যদি আপনারা চান এই দেশে বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হোক, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যদি কেউ অন্যায় ও অবিচারের পক্ষে অবস্থান নিতে চান, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন। আমরা সবাই এই দেশ থেকে দুর্নীতি, শোষণ, অনিয়ম ও অবিচার দূর করার লক্ষ্যে হ্যাঁ ভোট দেব। এটি কোনো দলের স্বার্থে নয়, এটি দেশের স্বার্থে গণভোট। বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বগুড়ার অধ্যক্ষ এস. এম প্রকৌশলী ইমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মেজবাউল করিমসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ছাত্র-জনতা।