
নতুন গবেষণার সতর্কবার্তা বিশ্বব্যাপী ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’-এ মারা যেতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষ; তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকতে পারে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে বড় ধরনের পারমাণবিক যুদ্ধ হলে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই বেঁচে থাকতে পারবে না। গবেষণা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে টিকে থাকতে পারে মাত্র দুটি দেশ— Australia এবং New Zealand।
আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার আধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। বিস্ফোরণের পর তীব্র অগ্নিগোলার তাপমাত্রা ১০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং এর ফলে সৃষ্টি হবে দীর্ঘমেয়াদি “নিউক্লিয়ার উইন্টার” বা পারমাণবিক শীতকাল।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিস্থিতিতে আকাশে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়বে, যা সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেবে। ফলে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাবে এবং কৃষি উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
গবেষকদের ধারণা, পারমাণবিক হামলার প্রাথমিক বিস্ফোরণ থেকে প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ হয়তো বেঁচে যেতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে খাদ্য সংকট, বিকিরণজনিত অসুস্থতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে তুলনামূলক বিচ্ছিন্ন এবং কৃষি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটের মধ্যেও এই দুটি দেশ কিছুটা খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখতে পারে। তবে সেখানকার মানুষকেও অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ, সীমিত সম্পদ এবং কঠিন জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক পারমাণবিক বিস্ফোরণ পৃথিবীর ওজোন স্তরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব বাড়বে এবং বিকিরণজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।
এমন সতর্কবার্তা এসেছে এমন সময়ে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে Iran ও Israel-এর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক শক্তিধর দেশের সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের গবেষণা বিশ্বনেতাদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে—
শক্তির নেশায় অন্ধ মূর্খ আত্মঘাতীরা যাতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হয়।