• ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে স্থল অভিযান ‘সুস্থ মানুষের কাজ নয়’: মার্কিন বিশ্লেষক রবার্ট ফার্লি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ৭, ২০২৬, ১৮:৩১ অপরাহ্ণ
ইরানে স্থল অভিযান ‘সুস্থ মানুষের কাজ নয়’: মার্কিন বিশ্লেষক রবার্ট ফার্লি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি স্থল বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রায় অযৌক্তিক পদক্ষেপ হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অধ্যাপক।

একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অপারেশন এপিক ফিউরি ইতোমধ্যে দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। কিন্তু বিমান হামলা ও সামরিক চাপ দিয়েও যদি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা না যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় ধরনের কৌশলগত প্রশ্ন দেখা দিতে পারে—শুধু আকাশপথের হামলা দিয়ে কি ইরানের সরকারকে দুর্বল করা সম্ভব, নাকি স্থল অভিযানের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ফার্লির মতে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি আক্রমণ করতে আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, “ইরান আক্রমণ করা সুস্থ মানুষের কাজ নয়।” এমনকি Donald Trump প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা নেতৃত্বও এমন সিদ্ধান্তে যেতে চায় না। তবে যদি যুক্তরাষ্ট্র তার যুদ্ধের লক্ষ্য শিথিল না করে এবং ইরানের সরকারও ভেঙে না পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন স্থল বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

ফার্লির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানে স্থল অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—অভিযান কোথা থেকে শুরু হবে। আগে আফগান ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি ছিল, যেগুলো সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য লজিস্টিক সহায়তা দিতে পারত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।

অন্যদিকে ইরাকে এখনো কিছু মার্কিন সেনা থাকলেও তাদের সংখ্যা সীমিত, আর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য উপযোগী নয়। একই ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে Turkey-এর ক্ষেত্রেও। ইরান–তুরস্ক সীমান্ত ভৌগোলিকভাবে কঠিন এবং তুরস্ক বড় মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেবে—এমন সম্ভাবনাও খুব কম।

এই বাস্তবতায় ফার্লির মতে, বড় ধরনের স্থল অভিযান চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে তুলনামূলক বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে সমুদ্রপথে হামলা। তবে এমন অভিযান অত্যন্ত জটিল এবং এতে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তির ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হবে।

আরেকটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে তিনি তথাকথিত আফগান মডেল-এর কথাও উল্লেখ করেন। এই কৌশলে স্থানীয় মিত্র বাহিনীকে ব্যবহার করে যুদ্ধ পরিচালনা করা হয় এবং তাদের সহায়তা দেয় মার্কিন বিশেষ বাহিনী ও নির্ভুল বিমান হামলা।

ফার্লি বলেন,ইরান ভৌগোলিকভাবে বড়, জনসংখ্যা বেশি এবং দেশটির ভূপ্রকৃতিও জটিল। ফলে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে মতপার্থক্যের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth স্থল বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে ভিন্ন অবস্থান বিবেচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে—তার স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই সংঘাতের একটি বাস্তবসম্মত সমাপ্তির পথ খুঁজে বের করা।

সূত্র: One Ninety Fortify Five

আরো পড়ুন

দৈনিক ভোর
×
Loading...