
শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার ধানকাটি ইউনিয়নে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত “পৈতকাটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি” দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। কয়েক হাজার গ্রাহক নিয়ে গড়ে ওঠা এই সমিতির আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ছিল বলে জানা গেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাসুদুর রহমান সনেটের নেতৃত্বে একটি পরিচালনা কমিটি সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করত।
সমিতির হিসাব অনুযায়ী, মোট সহ-সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। সমিতির নামে অন্তত দুটি ব্যাংক হিসাব ছিল—এর মধ্যে একটি সোনালী ব্যাংকে থাকলেও অপর হিসাবের তথ্য স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সমিতির নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করা হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
শহিদুল ইসলাম, ম্যানেজার (পিতা: আব্দুর রহমান সরদার, ঠিকানা মালগাঁও) — অভিযোগ: প্রায় ১৩ লাখ টাকা
রাসেল হাওলাদার, ফিল্ড অফিসার (পিতা: মাতিন হাওলাদার) — অভিযোগ: প্রায় ৩৯ লাখ টাকা
সুলতান খান ওরফে জাকির, ফিল্ড অফিসার (পিতা: সাদিম খান, পূর্ব ডামুড্যা) — অভিযোগ: প্রায় ২১ লাখ টাকা
হাবিব শেখ, ফিল্ড অফিসার (পিতা: সিরাজ উদ্দিন শেখ, প্রিয়কাটি) — অভিযোগ: প্রায় ২৩ লাখ টাকা
উপরোক্ত তথ্যসমূহ উপস্থাপন করেছেন সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাসুদুর রহমান সনেট। তিনি জানান, সমিতির মূলধন ছিল প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা।
সম্পদ বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন
সমিতির একটি ভবন ৫১ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভবনটি ক্রয় করেন ইমন সরদার (পিতা: রোস্তম আলী সরদার), যিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছোট ভাই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকা, ফলে কম মূল্যে বিক্রির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এছাড়া সমিতির একটি খামার রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ টাকা আয় হতো বলে জানা গেছে। খামারটির বর্তমান অবস্থা ও আয়ের হিসাব সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সমিতি বিলুপ্তির বিষয়ে অস্পষ্টতা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান সনেট দাবি করেন, সমিতির সকল গ্রাহকের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সমিতির কোনো কার্যক্রম নেই। তিনি আরও জানান, সমিতির ব্যাংক হিসাবও বন্ধ রয়েছে।
তবে সমিতি বিলুপ্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রেজুলেশন বা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নথি জমা দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জবাব দেননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ
কেহুরভাঙ্গা, তিনখাম্বা ও তিলই ধানকাটি সহ বিভিন্ন এলাকার অনেক গ্রাহক এখনো তাদের জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বক্তব্য সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের মতে, সমিতির প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ, সম্পত্তি বিক্রি, মামলার প্রকৃত অবস্থা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সমিতির সম্পদ দখল বা আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা উচিত বলে তারা মনে করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তারা যেন তাদের বক্তব্য ও প্রমাণাদি গণমাধ্যমের কাছে উপস্থাপন করেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরা যায়।