• ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকার কারণ জানাল প্রেস উইং

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৬:২৪ অপরাহ্ণ
সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকার কারণ জানাল প্রেস উইং
সংবাদটি শেয়ার করুন....

অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কেন আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—সে বিষয়ে নৈতিক, আইনি ও গণতান্ত্রিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারপ্রধানদের সংস্কার ও গণভোটে অবস্থান নেওয়ার নজিরও তুলে ধরা হয়েছে। রবিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বিষয়ে গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রকাশ্য সমর্থন নাকি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। তবে প্রেস উইংয়ের মতে, এই উদ্বেগ আলোচনার যোগ্য হলেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার আলোকে এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তি নেই। সংকটময় এই সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ঘাটতিরই প্রকাশ। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা বা একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, জনঅনাস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙনের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারের জন্ম, যার মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা। গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফল। ফলে এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে। প্রেস উইং আরও জানায়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতিতে অন্তর্বর্তী বা নির্বাচিত—কোনো সরকারেরই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নে নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। বরং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর ছেড়ে দেওয়াই গণতান্ত্রিক চর্চা। গণভোট কোনো টেকনোক্র্যাটিক প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের মাধ্যম। সরকারপ্রধানরা যখন নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, তখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও তথ্যভিত্তিক হয়। গণতান্ত্রিক বৈধতা নির্ভর করে ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশ, বিরোধী পক্ষের প্রচারণার সুযোগ এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর—নেতারা অবস্থান নিলেন কি না, তার ওপর নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংস্কার গণভোট দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব, যা প্রতিষ্ঠান দুর্বল করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই বাস্তবতায় প্রধান উপদেষ্টার সংস্কারের পক্ষে অবস্থান ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতারই প্রকাশ। যিনি নিজে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে ঐকমত্য তৈরির নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার নীরব থাকা দায়িত্বহীনতা হতো। প্রেস উইং আন্তর্জাতিক নজির তুলে ধরে জানায়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, তুরস্ক, কিরগিজস্তান ও ফ্রান্সসহ বহু দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা কখনোই অগণতান্ত্রিক বলে বিবেচিত হয়নি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নেই। প্রফেসর ইউনূস ও তার উপদেষ্টারা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত বা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে কাজ করছেন না। একবার জনগণ সিদ্ধান্ত নিলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত সরকারের ওপর। জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচারণা নিয়েও যে প্রশ্ন উঠেছে, তা প্রসঙ্গসহ দেখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। প্রেস উইং জানায়, এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য জনগণকে সংস্কারের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে জানানো, বিভ্রান্তি দূর করা এবং সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। উপসংহারে বলা হয়, এই সময় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সমর্থনে নয়, বরং দ্বিধা ও নীরবতায়। সংস্কারের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জনগণেরই—এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।