
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, সুন্দর আগামীর জন্য প্রয়োজন গণভোট। কারণ আমাদেরকে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার জন্য একটি গণতান্ত্রিক সিস্টেম, সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক চর্চাকে পুনর্বহাল করার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিকল্প নেই।
সুনামগঞ্জে ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আজ জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমি আপনাদের কাছে একটি বার্তা নিয়ে এসেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট হবে- একটি সংসদ নির্বাচনের ভোট এবং অন্যটি গণভোট। আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আপনি যাকে দায়িত্ব দিতে চান তাকে নির্বিঘ্নে, অবাধে ভোট দেবেন। সাদা রংয়ের ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গণভোটের জন্য গোলাপি রঙের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ থাকবে। উপদেষ্টা সকলকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের অনুরোধ জানান।
১৯৪৭ সালে বৃহত্তর সিলেটে অনুষ্ঠিত গণভোটের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে দেশের চেহারা পাল্টে যায়, ইতিহাস পরিবর্তিত হয়। আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন আসবে। সর্বগ্রাসী ফ্যাসিজম থেকে আমরা মুক্তি পাব। স্বৈরতান্ত্রিক শোষণ থেকে আমরা রেহাই পাব। উপদেষ্টা গণভোটের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের গণভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে। এদেশের মানুষের ঐকমত্যের ফসল গণভোট। এদেশের মানুষ যদি মনে করে আমরা সংস্কার চাই না, যেভাবে চলছে সেভাবেই চলুক, এতে ড. ইউনূসের কোনো ক্ষতি হবে না, আমারও কোনো ক্ষতি হবে না। সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য এটি করছে না।
ড. খালিদ আরো বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। জনগণ যাকে চান, তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে আমরা বিদায় নেব। তিনি সকলকে গণভোটের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানান।
এর আগে ভোটের গাড়ি ‘সুপার ক্যারাভান’ এর মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য ও সচেতনতামূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, গণমাধ্যমকর্মী, ইমাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সহস্রাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।